রোজ ভাতের সঙ্গে পাঁপড় খাচ্ছেন? উপকার নাকি ক্ষতি—কারা এড়িয়ে চলবেন, কী বলছেন পুষ্টিবিদ?

প্রতিদিন পাঁপড় খাওয়া শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ? তেলে ভাজা না সেঁকা—কোনটি ভালো, কারা পাঁপড় এড়িয়ে চলবেন এবং অতিরিক্ত নুনের কী ক্ষতি হতে পারে, জেনে নিন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ।

বাঙালির খাবারের পাতে পাঁপড় একটি জনপ্রিয় অনুষঙ্গ। শুধু বাংলাই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা ধরনের পাঁপড় খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন পাঁপড় খাওয়া কি আদৌ স্বাস্থ্যকর? পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক পরিমাণ ও সঠিক উপায়ে খেলে বড় সমস্যা না হলেও, কিছু ক্ষেত্রে এই অভ্যাস শরীরের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

পাঁপড়ের জনপ্রিয়তা, কিন্তু সব পাঁপড় এক নয়

উত্তর থেকে দক্ষিণ—ভারতের প্রায় সব রাজ্যেই বিভিন্ন ধরনের পাঁপড় খাওয়া হয়। কোথাও চালের পাঁপড়, কোথাও বেসনের, আবার কোথাও বিউলির ডালের পাঁপড় বেশি জনপ্রিয়। বর্তমানে বাজারে রসুন, পেঁয়াজ, কাঁচা আম, চিংড়ি-সহ নানা স্বাদের পাঁপড়ও মিলছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ধরনের পাঁপড়ের পুষ্টিগুণ বা নিরাপত্তা এক নয়। বাজারজাত পণ্যের গুণমানও বিবেচনা করা জরুরি।

তেলে ভাজা না সেঁকা—কোনটি বেশি নিরাপদ?

পুষ্টিবিদদের মতে, তেলে ভাজা পাঁপড়ের পরিবর্তে সেঁকা পাঁপড় খাওয়াই ভালো।

একটি পাঁপড়ে সাধারণত ৩৫-৪০ ক্যালোরি থাকে। বেসনের পাঁপড়ে কিছুটা প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট থাকলেও সোডিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তাই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়।

অতিরিক্ত নুনই বড় চিন্তার কারণ

কারখানায় তৈরি অনেক পাঁপড়ে সংরক্ষণের জন্য বেশি পরিমাণে নুন ব্যবহার করা হয়। অতিরিক্ত সোডিয়াম দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে—

উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়তে পারে

শরীরে জল জমার প্রবণতা দেখা দিতে পারে

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে

কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে

বাজারের রঙিন ও ফ্লেভারযুক্ত পাঁপড় কতটা নিরাপদ?

বর্তমানে নানা রঙ ও স্বাদের পাঁপড় বাজারে সহজলভ্য। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ক্ষেত্রেই দাবি অনুযায়ী প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হয় কি না, তা নিশ্চিত নয়।

কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম রং, রাসায়নিক সংযোজক বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড বা পরিচ্ছন্নভাবে তৈরি পণ্য বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

কেন তেলে ভাজা পাঁপড় এড়ানো উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব বেশি তাপমাত্রায় স্টার্চজাতীয় খাবার ভাজলে অ্যাক্রিলামাইড নামে একটি ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে।

এই কারণে বারবার তেলে ভাজা পাঁপড় খাওয়ার বদলে কম আঁচে সেঁকে খাওয়াকে তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করা হয়।

কারা পাঁপড় খাওয়ার আগে সতর্ক থাকবেন?

পুষ্টিবিদদের মতে, নিচের ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত—

উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন যাঁরা

সোডিয়াম-নিয়ন্ত্রিত ডায়েটে রয়েছেন

কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি

যাঁদের চিকিৎসক কম নুন খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন

এছাড়া পাঁপড়ের সঙ্গে নোনতা আচার বা অতিরিক্ত নুনযুক্ত খাবার একসঙ্গে না খাওয়াই ভালো।

দিনে কতটা খাওয়া নিরাপদ?

যদি কোনও বিশেষ স্বাস্থ্যসমস্যা না থাকে, তবে দিনে এক থেকে দুটি সেঁকা পাঁপড় খাওয়ায় সাধারণত বড় কোনও সমস্যা হয় না বলে বিশেষজ্ঞদের মত। তবে এটি যেন সুষম খাদ্যের বিকল্প না হয়ে ওঠে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

অনেকেরই ভাতের সঙ্গে পাঁপড় না হলে খাবার অসম্পূর্ণ লাগে। তবে প্রতিদিন পাঁপড় খাওয়া শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ, তা নির্ভর করে কী ধরনের পাঁপড় এবং কীভাবে তা খাওয়া হচ্ছে তার উপর। পুষ্টিবিদদের মতে, তেলে ভাজা পাঁপড়ের বদলে সেঁকা পাঁপড় তুলনামূলকভাবে ভালো। তবে উচ্চ রক্তচাপ বা সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।

Leave a comment