প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি (পিএম-কিষান) প্রকল্পের উপভোক্তা কৃষকদের জন্য e-KYC সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, যেসব কৃষকের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে না, তাদের পরবর্তী কিস্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। কৃষকরা আধার এবং ওটিপির সাহায্যে সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে বাড়িতে বসেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে ২৩তম কিস্তি কবে বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
কেন্দ্র সরকার উপভোক্তা কৃষকদের সময়মতো e-KYC সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে। সরকারের মতে, প্রকল্পের পরবর্তী কিস্তির সুবিধা পেতে e-KYC বাধ্যতামূলক। যেসব কৃষকের যাচাইকরণ এখনও সম্পন্ন হয়নি, তাদের দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ করতে বলা হয়েছে। কোনো উপভোক্তার e-KYC দীর্ঘদিন অসম্পূর্ণ থাকলে তার পরবর্তী কিস্তি বিতরণে বিলম্ব হতে পারে অথবা অর্থপ্রদান স্থগিতও হতে পারে।
সরকারের মতে, e-KYC বাধ্যতামূলক করার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র প্রকৃত ও যোগ্য কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে ভুয়া উপভোক্তাদের শনাক্ত ও অপসারণের লক্ষ্যে ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পিএম-কিষান প্রকল্পে e-KYC সেই উদ্যোগেরই একটি অংশ।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আধার তথ্যের সাহায্যে কৃষকদের পরিচয় যাচাই করা হয়। এর ফলে অযোগ্য বা অনিয়মিতভাবে প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণকারীদের শনাক্ত করা সহজ হয়। পাশাপাশি সহায়তার অর্থ সরাসরি সঠিক উপভোক্তার ব্যাংক হিসাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, e-KYC প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।
![]()
e-KYC সম্পন্ন করতে কৃষকদের কোনো সরকারি দফতর বা কমন সার্ভিস সেন্টারে যেতে হবে না। তারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বাড়িতে বসেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারবেন। এজন্য পিএম-কিষানের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে e-KYC অপশনে ক্লিক করতে হবে।
এরপর আধার নম্বর প্রবেশ করাতে হবে। আধারের সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি পাঠানো হবে, যা প্রবেশ করিয়ে যাচাইকরণ সম্পন্ন করা যাবে। ওটিপি সফলভাবে যাচাই হওয়ার পর e-KYC সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে। সরকার কৃষকদের কোনো নির্ধারিত শেষ তারিখের অপেক্ষা না করে দ্রুত প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অর্থপ্রদান সংক্রান্ত কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়।
পিএম-কিষান প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষকদের প্রতি বছর ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এই অর্থ তিনটি সমান কিস্তিতে সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। দেশের কোটি কোটি কৃষক এই প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করছেন। সর্বশেষ কিস্তি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে বিতরণ করা হয়েছিল। এর পর থেকে কৃষকরা ২৩তম কিস্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।
পূর্ববর্তী বছরগুলোর অর্থপ্রদানের ধারা অনুযায়ী, পরবর্তী কিস্তি ২০২৬ সালের জুলাই মাসের আশেপাশে বিতরণ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কেন্দ্র সরকার এখনও ২৩তম কিস্তির আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করেনি। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের শুধুমাত্র সরকারি পোর্টাল ও আনুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর নির্ভর করার এবং সময়মতো e-KYC সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে কিস্তি প্রাপ্তিতে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়।










