সরকারি প্রকল্পের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকে ঢাল করে প্রতারণার অভিযোগে নড়েচড়ে বসল পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে পূর্ব যাদবপুর থানার অভিযানে গ্রেপ্তার হল এক ঋণ প্রতারণা চক্রের পাঁচ সদস্য।
নিতাইনগরের আবাসন থেকে গ্রেপ্তার পাঁচ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে পূর্ব যাদবপুর থানার তদন্তকারীরা অভিযান চালান নিতাইনগর এলাকার একটি আবাসনে। ওই আবাসনের তৃতীয় তলার একটি ঘর থেকে অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতরা সকলেই ওই এলাকাতেই ভাড়া থাকছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কারা ধৃত? কোন রাজ্যের বাসিন্দা তাঁরা
পুলিশের দাবি অনুযায়ী ধৃতদের নাম—
অমিত খান (বিহার)
রথিন সিডি (কর্নাটক)
মহম্মদ নাজিমউদ্দিন সিদ্দিকি (কর্নাটক)
বিশাল সিন্ধে (কর্নাটক)
মধুসূদন এইচআর (কর্নাটক)
ভিনরাজ্যের এই পাঁচজনই পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।
উদ্ধার একাধিক মোবাইল, চলছে ফরেনসিক তদন্ত
অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৮টি স্মার্টফোন ও ৬টি কিপ্যাড ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, এই ফোনগুলির মাধ্যমেই ছোট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুদ্রা যোজনার লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হত। বাজেয়াপ্ত মোবাইলগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
মুদ্রা যোজনার লোনের নামে কীভাবে প্রতারণা?
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তরা মূলত ছোট ব্যবসায়ীদের টার্গেট করত। প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার আওতায় সহজ শর্তে লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন প্রক্রিয়াকরণ খরচ ও ফি বাবদ টাকা আদায় করা হত। টাকা নেওয়ার পর লোন না দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিত বলেই অভিযোগ।
পুরনো অভিযোগের সূত্র ধরেই জাল ভাঙে
উল্লেখযোগ্যভাবে, ৭ জানুয়ারি পূর্ব যাদবপুর থানায় একটি ঋণ প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমেই প্রথমে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ পান তদন্তকারীরা। এরপরই শুক্রবার রাতে চলে চূড়ান্ত অভিযান।
কোন ধারায় মামলা, কী বলছে পুলিশ
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা যুক্ত করে মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার ধৃতদের আদালতে পেশ করা হবে। পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জেরা করে এই চক্রের মূল মাথা ও আর্থিক লেনদেনের উৎস জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার লোন পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে বড়সড় সাফল্য পেল পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশ। অভিযান চালিয়ে নিতাইনগরের একটি আবাসন থেকে ভিনরাজ্যের ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৮টি স্মার্টফোন ও ৬টি কিপ্যাড ফোন। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।











