পটল ভাজা, দোলমা কিংবা পাতলা ঝোল— গরমের দুপুরে এই সবজি ছাড়া বাঙালির খাবারের পাতে যেন পূর্ণতা আসে না। তবে রান্না করার সময় অনেকেই পটলের ভেতরের বীজ ফেলে দেন। কারও ধারণা, বীজ খেলে পেটে সমস্যা হতে পারে। আবার কেউ বলেন, এই বীজই নাকি শরীরের জন্য উপকারী। তাহলে আসল সত্যিটা কী? বিশেষজ্ঞদের মতেই মিলল উত্তর।
![]()
পুষ্টিগুণে ভরপুর পটল
পটল অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি সবজি। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রচুর ফাইবার। কম ক্যালোরি ও কম ফ্যাট থাকায় ওজন কমানোর ডায়েটেও পটল বেশ জনপ্রিয়। গরমে শরীর হালকা রাখতে ও হজমশক্তি ভালো রাখতে পটল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
পটলের বীজ খেলে কী উপকার হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পটলের বীজে রয়েছে পর্যাপ্ত ফাইবার। এই ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে। যাঁদের পেট পরিষ্কার হওয়ার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য পটলের বীজ উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরতি রাখতেও সাহায্য করে।
![]()
তবে কেন অনেকে বীজ ফেলে দেন?
পটলের বীজের বাইরের আস্তরণ বেশ শক্ত হয়। অনেকের ক্ষেত্রে এই অংশ সহজে হজম হয় না। ফলে অতিরিক্ত খেলে পেট ব্যথা, অস্বস্তি বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদিও এমন ঘটনা খুব বিরল, তবুও যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের সতর্ক থাকা উচিত।
কারা সাবধানে খাবেন পটল?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাঁদের আলসার, গ্যাস্ট্রাইটিস বা কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের পটল খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ পটলে পটাশিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এছাড়া যাঁদের লো ব্লাড প্রেসারের সমস্যা রয়েছে, তাঁদেরও অতিরিক্ত পটল না খাওয়াই ভাল।আবার কারও কারও ক্ষেত্রে পটল অ্যালার্জির কারণও হতে পারে। চুলকানি, র্যাশ বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
![]()
কাঁচা নয়, ভাল করে রান্না করেই খান
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা পটল খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এতে হজমের সমস্যা বাড়তে পারে। ভালভাবে রান্না করা পটল শরীরের জন্য বেশি নিরাপদ ও উপকারী। অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ডায়রিয়া বা পেটের ক্র্যাম্পের সমস্যাও হতে পারে।
![]()
গ্রীষ্মকালে বাঙালির রান্নাঘরে পটল থাকবেই। কিন্তু পটলের বীজ খাওয়া আদৌ ভাল কি না, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পটলের বীজে যেমন রয়েছে উপকারিতা, তেমনই কিছু ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে হজমের সমস্যা। তাই খাওয়ার আগে জেনে নেওয়া জরুরি এর ভাল-মন্দ দুই দিকই।













