নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘নারী শক্তি বন্দন সম্মেলন’-এ প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi নারীদের ক্ষমতায়ন এবং গণতন্ত্রে তাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশে নারীদের অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নের উপর জোর দেন। এই অনুষ্ঠানটি সংসদে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নিয়ে আলোচনার আগে অনুষ্ঠিত হয়। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় সংসদ একটি নতুন ইতিহাস রচনার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, যা অতীতের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের দিকনির্দেশও নির্ধারণ করবে।
তিনি আরও বলেন, ভারত এমন একটি সমতাভিত্তিক সমাজের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে সামাজিক ন্যায় শুধুমাত্র একটি স্লোগান নয়, বরং শাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে।
‘আমি উপদেশ দিতে নয়, আশীর্বাদ নিতে এসেছি’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের সংসদ একটি “নতুন ইতিহাস” রচনার কাছাকাছি। তাঁর মতে, এই পরিবর্তন কেবল একটি আইন নয়, বরং সামাজিক ন্যায় ও সমান অংশগ্রহণের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। Narendra Modi বলেন, দেশ ২১তম শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে, যা নারীদের সম্মান ও ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে নিবেদিত। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে কাউকে উপদেশ দিতে বা জাগাতে আসিনি, আমি দেশের মা-বোনদের আশীর্বাদ নিতে এসেছি।’
তিনি বলেন, এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত নারীদের উপস্থিতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণের প্রতীক।
![]()
নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম নিয়ে অগ্রগতি
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালে সংসদে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পেশ করা হয়েছিল, যা সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয়। এখন সরকার এটি বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিশেষ অধিবেশন এই প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে, যার মাধ্যমে সংসদ ও বিধানসভায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হবে। Narendra Modi বলেন, ভারতে নারী নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রিপদে নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন। পঞ্চায়েত স্তরে ১৪ লক্ষেরও বেশি নারী নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং একাধিক রাজ্যে পঞ্চায়েতে নারীদের অংশগ্রহণ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বিশ্বের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক মডেল।
নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়িয়েছে। তিনি জানান, জনধন যোজনার অধীনে ৩২ কোটিরও বেশি নারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। মুদ্রা যোজনায় ৬০ শতাংশের বেশি উপভোক্তা নারী। ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে ৪২ শতাংশেরও বেশি স্টার্টআপে নারী ডিরেক্টর রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের পেশা ও পরিবার উভয়কে সামঞ্জস্য করতে সরকার মাতৃত্বকালীন ছুটি ২৬ সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়িয়েছে, যা বহু উন্নত দেশের তুলনায় বেশি।











