প্রীতম চক্রবর্তী সম্প্রতি তাঁর ৫৫তম জন্মদিনের পর একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টের কারণে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় উঠে এসেছেন। পোস্টটির ক্যাপশন ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে তাঁর অবসর নিয়ে জল্পনা শুরু হলেও, কোথাও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সঙ্গীত শিল্প ছাড়ার ঘোষণা দেননি।
সম্প্রতি ৫৫তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রীতম ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট শেয়ার করেন, যা তাঁর সম্ভাব্য “অবসর” নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনা বাড়িয়ে দেয়। এই জল্পনা আরও বেড়ে যায় এমন এক সময়ে, যখন কয়েক মাস আগে গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের প্লেব্যাক সিঙ্গিং থেকে দূরে সরে যাওয়ার খবরও অনুরাগী ও শিল্পমহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।
১৪ জুন ৫৫তম জন্মদিন উদযাপনের পর প্রীতম সাদা-কালো কিছু ছবি শেয়ার করে অনুরাগীদের শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি লেখেন যে প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়, তবে সব শুভেচ্ছার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
তাঁর বার্তার যে অংশটি সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, সেখানে তিনি “নতুন যাত্রা”-র কথা উল্লেখ করেন। প্রীতম জানান, তিনি নিজেকে এমন কয়েকটি বছর উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে তিনি জীবনকে ভিন্নভাবে উপভোগ করতে পারেন। তিনি আরও লেখেন, দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে রাখা কাজগুলি সম্পূর্ণ করার এবং বহুদিনের পরিকল্পিত নতুন পথে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
![]()
এই মন্তব্যের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয় যে তিনি কি বলিউডের সঙ্গীত জগত থেকে বিরতি বা অবসরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে প্রীতমের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক অবসর ঘোষণার কথা জানানো হয়নি। তাঁর পোস্ট মূলত ব্যক্তিগত জীবন এবং নতুন অভিজ্ঞতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। তা সত্ত্বেও, অনুরাগীদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে বলিউড হয়তো আরও একজন প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীতকারকে হারাতে পারে, যিনি গত দুই দশকে একাধিক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন।
প্রীতম চক্রবর্তী ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক। তাঁর সুরারোপিত বহু গান আজও শ্রোতাদের প্লেলিস্টের অংশ।
তাঁর জনপ্রিয় গানগুলির মধ্যে রয়েছে “তুম হি হো” (সহযোগী প্রকল্পে অবদান), “বল্লম পিচকারি”, “গেরুয়া”, “নয়না”, “বুলেয়া”, “দেবা-দেবা”, “ম্যায় আগর” এবং “আশিয়াঁ”।
২০০১ সালে ‘তেরে লিয়ে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ওই ছবিতে তিনি জিৎ গাঙ্গুলীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। পরবর্তীতে একাধিক সফল চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনার মাধ্যমে তিনি বলিউডের শীর্ষ সঙ্গীত পরিচালকদের মধ্যে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
প্রীতম FTII (ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া) থেকে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বিজ্ঞাপনের জিঙ্গল, টেলিভিশন অনুষ্ঠানের থিম মিউজিক এবং সাউন্ড ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেছিলেন।








