পশ্চিমী জেট স্ট্রিম ও দুর্বল আরব সাগর শাখার কারণে রাজস্থানে বর্ষার আগমন ৩০ জুন পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে

আবহাওয়া বিভাগের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমী জেট স্ট্রিমের প্রভাব এবং দুর্বল আরব সাগর শাখার কারণে রাজস্থানে বর্ষার অগ্রগতি ধীর হয়েছে। ফলে ২৫ জুনের পরিবর্তে ৩০ জুনের কাছাকাছি বর্ষা প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজস্থানে বর্ষার আগমন এখন ২৫ জুনের পরিবর্তে ৩০ জুনের কাছাকাছি হতে পারে বলে আবহাওয়া বিভাগ নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য ও স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্ষার অগ্রগতি বর্তমানে ধীর হয়ে পড়েছে, যার ফলে রাজ্যে বর্ষা পৌঁছাতে প্রায় এক সপ্তাহ বিলম্ব হতে পারে।

আবহাওয়া বিভাগের নতুন অনুমান অনুযায়ী, আগে যেখানে ২৫ জুনের মধ্যে রাজস্থানে বর্ষা পৌঁছানোর সম্ভাবনা জানানো হয়েছিল, সেখানে এখন ৩০ জুনের আশপাশে প্রবেশের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষাজনিত কার্যকলাপ দুর্বল হয়ে পড়ায় এর অগ্রগতি প্রভাবিত হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুন থেকে ১৫ জুনের মধ্যে দেশজুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এই সময়ে গড়ে ৫৩.৭ মিমি বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ১৯.২ মিমি বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হয়েছে। এটি স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৬৪ শতাংশ কম।

আবহাওয়া বিভাগের প্রাপ্ত স্যাটেলাইট চিত্রও বর্ষার ধীর অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে। সাধারণত সক্রিয় বর্ষার সময় দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঘন মেঘের বিস্তার দেখা যায়, তবে এবার চিত্রে সেই পরিস্থিতি দেখা যায়নি।

বিশেষ করে রাজস্থানে আর্দ্রতা পৌঁছে দেওয়া আরব সাগর শাখা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত মাত্রায় মেঘের বিকাশ ঘটছে না। এ কারণেই রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় এখনও তীব্র রোদ ও গরম বাতাসের প্রভাব বজায় রয়েছে।

পশ্চিমী জেট স্ট্রিম ও দুর্বল আরব সাগর শাখার কারণে রাজস্থানে বর্ষার আগমন ৩০ জুন পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে

আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষার এই মন্থর গতির পেছনে পশ্চিমী জেট স্ট্রিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ বছর এই বায়ুপ্রবাহ তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে দক্ষিণ দিকে সরে গেছে। এর ফলে বর্ষাকে সক্রিয় রাখার পূর্বমুখী বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমী বায়ুপ্রবাহ বেশি কার্যকর হলে মেঘ গঠন ও বৃষ্টিপাতের প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়। এর ফলেই বর্ষার গতি কমেছে এবং একাধিক রাজ্যে প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত হচ্ছে না।

আবহাওয়া বিভাগের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি স্থায়ী নয়। আবহাওয়া মডেলগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জেট স্ট্রিমের প্রভাব দুর্বল হতে পারে। এরপর বর্ষাজনিত বায়ুচক্র আবার সক্রিয় হবে এবং বৃষ্টিপাতের কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও ছত্তীসগঢ়ের দিক থেকে বর্ষার বায়ুপ্রবাহ আবার শক্তিশালী হতে পারে। এর ফলে রাজস্থানে বর্ষার অগ্রগতিও দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে জুনের শেষ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের অধিকাংশ অঞ্চলে বর্ষা পৌঁছাতে পারে।

রাজস্থানের একাধিক জেলায় বর্তমানে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। বর্ষা বিলম্বিত হওয়ায় মানুষকে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে আবহাওয়া বিভাগের অনুমান অনুযায়ী, জুনের শেষ দিকে বৃষ্টিপাত শুরু হলে তাপমাত্রা কমতে পারে।

খরিফ ফসলের বপন অনেকাংশে বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় কৃষকদের জন্যও বর্ষার আগমন গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রাজ্যজুড়ে এখন সম্ভাব্য নতুন তারিখ ৩০ জুনের দিকেই নজর রয়েছে।

 

Leave a comment