প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়ের রুট পরিবর্তনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর প্রায় ১৫০টি পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। প্রভাবিতদের দাবি, নতুন রুট কার্যকর হলে তাদের বাড়ি, দোকান এবং জীবিকার ওপর সংকট নেমে আসবে। তাদের অভিযোগ, প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রুট পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার ফলে বিপুল সংখ্যক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গ্রামবাসী ও দোকানদারদের বক্তব্য, বহু বছরের পরিশ্রমে তারা নিজেদের বাড়ি ও ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। হঠাৎ রুট পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হওয়ায় তারা অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন। অনেকেই বলেছেন, বাড়ি-দোকান হারালে ভবিষ্যতে জীবন কীভাবে চলবে তা নিয়ে তারা চিন্তিত।
স্থানীয়দের দাবি, আগে যে রুটের তথ্য জানানো হয়েছিল, সেই অনুযায়ী তাদের জমি ও বাড়িঘর প্রকল্পের আওতায় পড়ছিল না। তবে নতুন প্রস্তাবিত রুট নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। এর ফলে প্রভাবিত এলাকার মানুষ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করছেন।
গ্রামবাসীদের মতে, প্রকল্পের জন্য যদি তাদের জমি বা বাড়ি অধিগ্রহণ করা হয়, তাহলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের বক্তব্য, উন্নয়নমূলক প্রকল্প প্রয়োজনীয় হলেও মানুষের জীবন ও জীবিকাকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
অনেক পরিবার জানিয়েছে, তাদের সম্পূর্ণ জীবিকা দোকান বা ছোট ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। দোকান সরিয়ে নেওয়া হলে তাদের সামনে কর্মসংস্থানের সংকট দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে যে এলাকায় তারা বসবাস করছেন, সেখান থেকে উচ্ছেদ হওয়ার সম্ভাবনাও তাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
এই ইস্যুতে প্রভাবিত পরিবারগুলো বৈঠক শুরু করেছে। তারা প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট তথ্য এবং লিখিত আশ্বাস দাবি করছে। কয়েকজন জানিয়েছেন, তাদের দাবি উপেক্ষা করা হলে তারা আন্দোলনের পথও বেছে নিতে পারেন।
তবে রুট পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। কর্মকর্তাদের বক্তব্য, প্রকল্প-সংক্রান্ত সব বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
বর্তমানে এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পকে ঘিরে এলাকাজুড়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। প্রভাবিত পরিবারগুলোর প্রধান উদ্বেগ হলো, রুট পরিবর্তন হলে তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে এবং তারা কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করবেন। এখন সবার নজর প্রশাসন ও সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।












