পূর্ব বর্ধমানে স্করপিও ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মৃত ৩, আহত ৪

পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানা এলাকায় বর্ধমান-সিউড়ি জাতীয় সড়কে স্করপিও ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং চারজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। Do you like this personality?

পশ্চিম বর্ধমানে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত ৩, আহত ৪

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলায় ২৭ অক্টোবর একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ভাতার থানা এলাকার বর্ধমান-সিউড়ি জাতীয় সড়কে ঝরনা মোড়ের কাছে একটি স্করপিও গাড়ির সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাস্তায় হঠাৎ একটি ছাগল চলে আসায় সেটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে স্করপিওর চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি রাস্তার পাশে একটি গর্তে উল্টে যায়। ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্করপিওটি বর্ধমান থেকে বোলপুরের দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় ঝরনা মোড়ের কাছে আচমকা একটি ছাগল রাস্তার সামনে চলে আসে। ছাগলটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে চালক হঠাৎ গাড়ির দিক পরিবর্তন করেন। এর জেরেই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর স্করপিওটি রাস্তা থেকে নেমে পাশের একটি গর্তে উল্টে যায়। মোটরসাইকেলটিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি থেকে আহতদের উদ্ধারে সাহায্য করেন।

দুর্ঘটনায় জড়িত স্করপিওতে কয়েকজন যাত্রী শান্তিনিকেতনের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। তাঁদের সেখানে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুট করার পরিকল্পনা ছিল। গাড়িতে বিয়ে করতে চলা এক জুটি এবং ফটোশুটের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ফটোশুটের জন্য গাড়িটি ভাড়া করা হয়েছিল। সকালে শুরু হওয়া সেই যাত্রাপথেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মৃত তিনজনের মধ্যে দু’জন ফটোগ্রাফার ছিলেন, যাঁরা ফটোশুটের জন্য যাচ্ছিলেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের পরিচয় সুদেব ঘোষ (২৮), শেখ নওয়াজ (২৬) এবং সাধুজামাল শাহ (৪৩) হিসেবে জানা গিয়েছে।

সুদেব ঘোষ মোষাগ্রাম স্টেশন বাজারের বাসিন্দা ছিলেন। শেখ নওয়াজ বর্ধমান শহরের কমলসায়র এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদিকে, সাধুজামাল শাহ আউশগ্রাম থানা এলাকার ওড়গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন।

এই দুর্ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িতে আটকে পড়া ব্যক্তিদের বাইরে বের করে আনতে তাঁরা সাহায্য করেন। খবর পেয়ে ভাতার থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।

আহতদের প্রথমে গুসকরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহতদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে পৌঁছনোর পর তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাকি চারজন আহতকে বর্ধমানের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে।

ভাতার থানার পুলিশ দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি গাড়ির সংঘর্ষের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে রাস্তায় আচমকা ছাগল চলে আসার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িগুলির গতিবেগ কত ছিল এবং চালকের সামনে ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যার ফলে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পূর্ব বর্ধমান জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২১ অক্টোবর রায়না থানা এলাকায় একটি ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল।

পরপর দুর্ঘটনার ঘটনায় জাতীয় সড়কে যানবাহন চালানোর সময় সতর্কতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। বিশেষত যেসব রাস্তায় হঠাৎ গবাদি পশু চলে আসার আশঙ্কা থাকে, সেখানে গাড়ির মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং নিয়ন্ত্রিত গতিতে চলার গুরুত্ব রয়েছে।

বর্তমানে ভাতার থানার পুলিশ এই দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখছে।

Leave a comment