জঙ্গলমহলের বহুদিনের দাবি অবশেষে বাস্তবায়নের পথে। রাঁচি-পুরুলিয়া সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ খনিজ করিডোরে রেলপথ সম্প্রসারণের ছাড়পত্র মিলতেই আশাবাদী যাত্রী থেকে শিল্পমহল—সবাই। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের পরিকাঠামোয় আসছে বড় পরিবর্তন।
রেলমন্ত্রীর অনুমোদন, ৮১৫ কোটি টাকার প্রকল্প
এই বহুল প্রতীক্ষিত প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। প্রায় ৫১.৭৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পে মোট ৮১৫.৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কোথায় কী পরিবর্তন?
বর্তমানে বারবেন্দা থেকে ডামরুঘুটু পর্যন্ত একটিমাত্র লাইন রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। নতুন প্রকল্পে—
বারবেন্দা-ডামরুঘুটু অংশে ডবল লাইন
ডামরুঘুটু-বোকারো স্টিল সিটি অংশে তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন
ফলে ট্রেন চলাচলের চাপ অনেকটাই কমবে এবং গতি বাড়বে।
১০৮% ক্ষমতায় চলা রুটে মিলবে স্বস্তি
রেল সূত্রে দাবি, এই রুট বর্তমানে ১০৮ শতাংশ কার্যক্ষমতায় চলছে। প্রতিদিন প্রায় ৭৮টি ট্রেন—৩৮টি যাত্রীবাহী ও ৪০টি মালগাড়ি—এই পথে চলাচল করে। অতিরিক্ত চাপের কারণে ৯৫ থেকে ১৫০ মিনিট পর্যন্ত দেরি হচ্ছে। নতুন লাইন চালু হলে লেট-রানিং সমস্যার বড় অংশ মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খনিজ ও শিল্প করিডোরে গতি
এই রেলপথ ভারতের শক্তি, খনিজ ও সিমেন্ট করিডোরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একাধিক শিল্পকেন্দ্র এই লাইনের ওপর নির্ভরশীল। মাল্টি-ট্র্যাকিং সম্পন্ন হলে পণ্য পরিবহন দ্রুততর হবে, যা দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
জঙ্গলমহলের দাবি পূরণ
পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো জানান, দীর্ঘদিন ধরে রেললাইনের সম্প্রসারণের দাবি জানানো হচ্ছিল। জঙ্গলমহলের মানুষের স্বার্থে এই অনুমোদন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যাত্রীদের কথায়, রাঁচি-পুরুলিয়া যাতায়াত এখন অনেকটাই মসৃণ হবে।
বারবেন্দা থেকে বোকারো স্টিল সিটি পর্যন্ত ৫১.৭৬১ কিমি রেলপথে ডবল লাইন ও মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পে ৮১৫.৩২ কোটি টাকার অনুমোদন দিল রেল মন্ত্রক। রাঁচি-পুরুলিয়া রুটে কমবে ট্রেনের দেরি, বাড়বে গতি ও নিরাপত্তা।











