রুটি বানানোর সময় তাওয়ায় অর্ধেক সেঁকে নিয়ে সরাসরি গ্যাসের আঁচে ফুলিয়ে নেওয়া বহু ভারতীয় রান্নাঘরের পরিচিত দৃশ্য। রুটি দ্রুত ফুলে ওঠে, দেখতে হয় সুন্দর এবং খেতেও বেশ মজাদার। কিন্তু এই অভ্যাসই কি শরীরের জন্য ক্ষতিকর? গবেষণায় উঠে আসা কিছু তথ্যের কারণে সরাসরি আগুনে রুটি সেঁকার পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অতিরিক্ত তাপে রান্নায় তৈরি হতে পারে কিছু রাসায়নিক
উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করার সময় খাবারের মধ্যে কিছু রাসায়নিক যৌগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে খাবার পুড়িয়ে বা অতিরিক্ত বাদামি করে ফেললে অ্যাক্রিলামাইডের মতো যৌগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই রাসায়নিক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা চলছে।তবে রুটির ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু জটিল। সরাসরি গ্যাসের আগুনে রুটি ফুলিয়ে নিলেই বিপজ্জনক মাত্রায় অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হয় এবং তা থেকেই ক্যানসার হবে—এমন সরাসরি ও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই আতঙ্কিত না হয়ে রান্নার পদ্ধতি নিয়ে সতর্ক থাকাই যুক্তিযুক্ত।
গ্যাসের আগুনে রয়েছে আরও একটি উদ্বেগ
গ্যাস বার্নার জ্বলার সময় কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড এবং অতিক্ষুদ্র কণিকার মতো কিছু দূষণকারী পদার্থ তৈরি হতে পারে। পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকা রান্নাঘরে এই দূষণের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা এবং হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শুধু রুটি নয়, গ্যাসে রান্নার সময় রান্নাঘরে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরাসরি আগুনে রুটি সেঁকার বদলে কী করবেন?
রুটি ফুলকো করার জন্য সরাসরি গ্যাসের আগুনে ধরতেই হবে, এমন কোনও কথা নেই। তাওয়ার উপর রেখেই রুটি ভালোভাবে ফুলিয়ে নেওয়া সম্ভব।রুটি তাওয়ায় দেওয়ার পর একদিক কিছুটা সেঁকা হলে উল্টে দিন। এরপর কাপড় বা উপযুক্ত রান্নার সরঞ্জাম দিয়ে হালকা চাপ দিলে রুটির ভিতরে বাষ্প তৈরি হয়ে সেটি ফুলে উঠতে পারে। এই পদ্ধতিতে সরাসরি আগুনের সংস্পর্শ এড়ানো সম্ভব।
তাহলে কি গ্যাসের আগুনে রুটি খাওয়া একেবারেই বন্ধ?
এখনই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর কারণ নেই। গবেষণায় রান্নার উচ্চ তাপমাত্রা, অ্যাক্রিলামাইড এবং গ্যাসের দহনের ফলে তৈরি দূষণকারী পদার্থ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ঠিকই, কিন্তু সরাসরি গ্যাসের আগুনে ফুলানো রুটি খেলেই ক্যানসার হবে—এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।তবে রুটি পুড়িয়ে কালো করে না খাওয়া, অতিরিক্ত পোড়া অংশ এড়িয়ে চলা এবং রান্নাঘরে ভালো বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা অবশ্যই ভালো অভ্যাস। চাইলে সরাসরি আগুনের বদলে তাওয়ার উপর রুটি ফুলিয়েও খেতে পারেন।
রুটি ফুলিয়ে নেওয়ার জন্য সরাসরি গ্যাসের আগুনে ধরেন অনেকেই। কিন্তু এই রান্নার পদ্ধতি নিয়ে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অতিরিক্ত তাপে রান্নার ফলে অ্যাক্রিলামাইডের মতো রাসায়নিক তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। আবার গ্যাস বার্নার থেকে নির্গত কিছু দূষণকারী পদার্থও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে সরাসরি আগুনে সেঁকা রুটি খেলে ক্যানসার হবেই—এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনও নেই।













