সোমবারের প্রারম্ভিক লেনদেনে ভারতীয় রুপি বড় পতনের পর শক্তিশালী পুনরুদ্ধার করে ডলারের বিপরীতে 128 পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং সর্বকালীন নিম্নস্তর থেকে উপরে ওঠে। তবে একই সময়ে শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়, ফলে মুদ্রা ও ইক্যুইটি বাজারে বিপরীতধর্মী প্রবণতা স্পষ্ট হয়। একদিকে রুপির শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে ইক্যুইটি বাজার চাপের মধ্যে রয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য মিশ্র সংকেত নির্দেশ করে।
আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে রুপি 93.62-এ খোলে এবং পরে শক্তিশালী হয়ে প্রতি ডলারে 93.57-এ পৌঁছায়। এটি আগের বন্ধ স্তরের তুলনায় 128 পয়সার পুনরুদ্ধার নির্দেশ করে।
শুক্রবার রুপি 89 পয়সা পতনের সঙ্গে 94.85-এর সর্বকালীন নিম্নস্তরে বন্ধ হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সোমবারের শুরুতে এই বৃদ্ধি বাজারে আংশিক স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও চাপ সম্পূর্ণভাবে দূর হয়নি।
বিশ্বব্যাপী মার্কিন ডলারে সামান্য দুর্বলতা লক্ষ্য করা গেছে। ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান নির্দেশক ডলার ইনডেক্স 0.06 শতাংশ কমে 100.09-এ লেনদেন করছিল।
ডলারের এই সীমিত দুর্বলতা উদীয়মান বাজারের মুদ্রাগুলিকে কিছুটা সহায়তা করে, যার ফলে রুপিও শক্তিশালী হয়েছে। তবে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে এই প্রবণতা স্থায়ী হবে কি না তা স্পষ্ট নয়।
রুপির শক্তি সত্ত্বেও অপরিশোধিত তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি বজায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড 2.16 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় 115 ডলারে লেনদেন করছিল।
তেলের মূল্যবৃদ্ধি আমদানি ব্যয় বাড়ায় এবং এর ফলে রুপির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে রুপির এই শক্তি বজায় থাকে কি না তা পর্যবেক্ষণযোগ্য হবে।
দেশীয় শেয়ারবাজারে প্রারম্ভিক লেনদেনে তীব্র পতন রেকর্ড হয়েছে। সেনসেক্স 1,191.24 পয়েন্ট কমে 72,391.98-এ নেমে আসে এবং নিফটি 50 349.45 পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে 22,470.15-এ পৌঁছায়।
এই পতন বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি গ্রহণে অনীহা নির্দেশ করে।
শেয়ারবাজারে পতনের একটি প্রধান কারণ বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক বিক্রি। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মোট 4,367.30 কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।
বৃহৎ পরিসরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি বাজারে সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে সূচক নিম্নমুখী হয় এবং বিনিয়োগকারীদের মনোভাব প্রভাবিত হয়।
সাধারণত রুপির শক্তিশালী হওয়া বাজারের জন্য অনুকূল সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে রুপির পুনরুদ্ধার সত্ত্বেও শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে।
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে রাখছে, যার ফলে মুদ্রার শক্তি বাজারকে পূর্ণ সমর্থন দিতে পারছে না।












