সুস্থ থাকতে অনেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় স্যালাড রাখেন। কিন্তু স্যালাড কখন খাওয়া উচিত—খাবারের আগে, পরে নাকি সঙ্গে? এই প্রশ্নের উত্তর জানেন না অনেকেই। পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক সময়ে স্যালাড খেলে এর পুষ্টিগুণ আরও কার্যকর হয়। আবার কিছু বিশেষ শারীরিক সমস্যায় এই নিয়মেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
খাবারের আগে স্যালাড খাওয়াই সবচেয়ে উপকারী
পুষ্টিবিদদের মতে, মূল খাবারের প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে এক বাটি স্যালাড খাওয়ার অভ্যাস সবচেয়ে ভালো। এতে শরীর আগে থেকেই ফাইবার, জল, ভিটামিন এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান পেয়ে যায়। একই সঙ্গে হজম প্রক্রিয়াও সক্রিয় হতে শুরু করে।
শসা, টমেটো, গাজর, বিট, বাঁধাকপি, লেটুসের মতো কাঁচা সবজি দিয়ে তৈরি স্যালাড পেট আংশিক ভরিয়ে দেয়। ফলে মূল খাবারের সময় অতিরিক্ত ভাত, রুটি বা তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।
ওজন কমাতে চাইলে এই অভ্যাস কার্যকর
যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন, তাঁদের জন্য খাবারের আগে স্যালাড খাওয়ার অভ্যাস বিশেষ উপকারী হতে পারে। ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে ক্যালোরি গ্রহণও তুলনামূলক কম হয়।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও থাকতে পারে উপকার
ডায়েটিশিয়ান অস্মিতা বিশ্বাসের মতে, খাবারের আগে স্যালাড খেলে কার্বোহাইড্রেট ধীরে হজম হয়। এর ফলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।এছাড়া স্যালাডে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।
সব স্যালাড কিন্তু সমান স্বাস্থ্যকর নয়
স্যালাডে যদি অতিরিক্ত মেয়োনিজ, চিজ, ক্রিম বা ভাজা উপকরণ ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেটি আর হালকা খাবার থাকে না। এমন স্যালাড মূল খাবারের সঙ্গেই খাওয়াই ভালো। কারণ এতে ক্যালোরি ও চর্বির পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে যায়।
কারা খাবারের সঙ্গে স্যালাড খাবেন?
যাঁদের গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা কাঁচা সবজি খেলে অস্বস্তি হয়, তাঁদের জন্য খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণে স্যালাড খাওয়াই বেশি উপযোগী। এতে হজমের সমস্যা কিছুটা কম হতে পারে।অন্যদিকে, খাবারের পরে স্যালাড খাওয়া গেলেও পুষ্টিবিদদের মতে, এতে স্যালাডের সম্ভাব্য উপকার পুরোপুরি পাওয়া যায় না।
স্যালাড শুধু স্বাস্থ্যকর হলেই হবে না, সঠিক সময়ে খাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদদের মতে, মূল খাবারের ১৫–২০ মিনিট আগে স্যালাড খেলে হজম ভালো হয়, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার ওঠানামাও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।













