প্রথম পিরিয়ড প্রত্যেক মেয়ের জীবনেই এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। কারও কাছে তা আনন্দের, কারও কাছে আবার অস্বস্তি বা আতঙ্কের। কিন্তু যদি সেই প্রথম ঋতুস্রাব হয় চলন্ত ট্রেনের মধ্যে, তাহলে পরিস্থিতি যে আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। এমনই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন জনপ্রিয় গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল। Saregamapa-এর শুটিং শেষ করে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথেই শুরু হয়েছিল তাঁর প্রথম পিরিয়ড।
চলন্ত ট্রেনেই প্রথম পিরিয়ড!
শ্রেয়া ঘোষালের কণ্ঠ আজ সারা দেশের শ্রোতাদের কাছে পরিচিত। কিন্তু তাঁর জীবনের একেবারে শুরুর দিকের একটি ঘটনা বহু বছর পর সাক্ষাৎকারে সামনে এনেছিলেন তিনি।এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া জানান, ছোটবেলায় ‘সারে গা মা পা’-এর শুটিং শেষ করে বাবার সঙ্গে ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেই যাত্রাপথেই প্রথমবার ঋতুস্রাব শুরু হয়।হঠাৎ শরীরে এমন পরিবর্তন বুঝতে না পেরে প্রথমে বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন গায়িকা। কী ঘটছে, কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবেন—কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না।
মেয়ের ভয় কাটিয়েছিলেন বাবা
সেই কঠিন মুহূর্তে শ্রেয়ার পাশে ছিলেন তাঁর বাবা। মেয়েকে আতঙ্কিত হতে দেখে প্রথমেই তাঁকে আশ্বস্ত করেন তিনি।সমস্যা আরও কঠিন হয়েছিল কারণ তখন তাঁরা ট্রেনের মধ্যে ছিলেন। ইচ্ছা করলেই মাঝপথে নেমে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সুযোগ ছিল না। ফলে বাড়ি পৌঁছনো পর্যন্ত পরিস্থিতি সামলানোই ছিল বড় বিষয়।শ্রেয়ার কথায়, বাড়ি পৌঁছনোর পর তাঁর বাবা প্রথমেই মেয়ের জন্য স্যানিটারি প্যাড কিনে আনেন। বাবার সেই সহযোগিতার স্মৃতি আজও তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগের।
মেয়ের পাশে সবসময় ছিলেন শ্রেয়ার বাবা
শুধু প্রথম পিরিয়ডের সময় নয়, শ্রেয়ার সঙ্গীতজীবনের শুরু থেকেই তাঁর বাবার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।ছোট বয়স থেকেই গানকে নিজের ভবিষ্যৎ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন শ্রেয়া। কিন্তু মেয়ের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাই যে খুশি ছিলেন, তা নয়। অনেকেই তাঁর বাবাকে প্রশ্ন করতেন, মেয়ের পড়াশোনার পরিবর্তে গান শেখানো এবং সঙ্গীতের পিছনে এতটা সময় কেন দেওয়া হচ্ছে।কেউ কেউ এমন কথাও বলেছিলেন, শুধু গান নিয়ে থাকলে ভবিষ্যতে কী হবে!
মানুষের কথায় থামেননি বাবা
অন্যের কথায় মেয়ের স্বপ্ন থেকে সরে যাননি শ্রেয়ার বাবা। বরং মেয়ের প্রতিভা এবং ইচ্ছার উপর আস্থা রেখেছিলেন।শ্রেয়ার কথায়, মেয়েকে নিয়ে কটাক্ষ শুনে তাঁর বাবা বরং আরও দৃঢ় হয়ে উঠতেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, মেয়েকে সুযোগ দিলে সে নিজের পরিচয় তৈরি করতে পারবে।আজ শ্রেয়া ঘোষাল ভারতীয় সঙ্গীতজগতের অন্যতম পরিচিত কণ্ঠ। দেশ-বিদেশে তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা। সেই সাফল্যের নেপথ্যে তাঁর নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি পরিবারের সমর্থনের কথাও বারবার উঠে এসেছে।
সেই ছোট্ট মেয়েই আজ জনপ্রিয় গায়িকা
প্রথম জীবনের সেই ট্রেনযাত্রা থেকে আজকের তারকা হয়ে ওঠা—শ্রেয়ার পথচলা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার। জীবনের অত্যন্ত ব্যক্তিগত একটি মুহূর্তের স্মৃতি প্রকাশ্যে এনে তিনি যেমন নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন, তেমনই তুলে ধরেছেন বাবার সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথাও।প্রথম পিরিয়ডের সময় ভয় পাওয়া থেকে শুরু করে সঙ্গীতজীবনের নানা বাধা—প্রতিটি পর্যায়েই বাবাকে পাশে পেয়েছেন শ্রেয়া। আর সেই কারণেই তাঁর কাছে এই পুরনো স্মৃতি শুধু একটি অস্বস্তিকর ঘটনা নয়, বরং বাবার ভালোবাসা ও যত্নের একটি বিশেষ অধ্যায়।
Saregamapa-এর শুটিং শেষ করে ট্রেনে বাড়ি ফেরার সময়ই জীবনের প্রথম ঋতুস্রাব শুরু হয়েছিল শ্রেয়া ঘোষালের। আচমকা এমন পরিস্থিতিতে পড়ে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। চলন্ত ট্রেন হওয়ায় কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। সেই সময় মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর বাবা। শ্রেয়া নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন সেই পুরনো স্মৃতির কথা।









