राजस्थान: লাসরি स्थित সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একসময় বনশী বাল্মিকি একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন বনশী বাল্মিকি। প্রায় ১০ বছর আগে তিনি আকস্মিকভাবে মারা যান। পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। সংসারে স্ত্রী, দুই মেয়ে - পূজা ও সুনীতা এবং এক ছেলে ছিল। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল খুবই খারাপ।
পিতার মৃত্যুর পর পূজা ও সুনীতা हिम्मत হারায়নি। তারা তাদের পিতার স্থানে একই স্কুলে পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করে। ধীরে ধীরে সময় কাটতে থাকে, দুই বোন বড় হয় এবং বিবাহের বয়সে পৌঁছায়। কিন্তু পরিবারের দুর্বল অবস্থার কারণে তাদের বিয়ে দেওয়া পরিবারের জন্য সহজ ছিল না।
যেখানে একজন শিক্ষক অভিভাবক হন
এই সময়ে স্কুলের অধ্যক্ষ হরবীর সিং জাখড় একটি সংবেদনশীল এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেন। তিনি স্কুলের কর্মীদের সাথে একটি সভা করে দুই বোনের বিবাহের অনুষ্ঠান সম্মিলিতভাবে করার প্রস্তাব দেন। অধ্যক্ষ বলেন যে এই মেয়েরা কেবল একজন কর্মচারীর সন্তান নয়, বরং পুরো স্কুল পরিবারের দায়িত্ব।
কর্মীরাও দ্বিধা ছাড়াই এই প্রস্তাব গ্রহণ করে। এরপর আর্থিক সহায়তার জন্য দুই জন সমাজসেবকের সাথে যোগাযোগ করা হয়। এখানেই থেমে থাকেনি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন করা হয়।
তিনটি গ্রাম একসাথে দায়িত্ব নেয়
অধ্যক্ষ এবং স্কুল কর্মীদের উদ্যোগের ফলে লাসরি গ্রামের পাশাপাশি লুনোদা এবং নেতড়োঁ কি ধাণীর গ্রামবাসীরাও এই মহৎ কাজে যোগ দেয়। কেউ শস্য দিয়েছে, কেউ কাপড়, কেউ নগদ অর্থ আবার কেউ শ্রম ও সময় দিয়ে সহযোগিতা করেছে। প্রতিটি বাড়ি থেকে সাহায্যের হাত বাড়ানো হয়েছে।
১৩ ডিসেম্বর উভয় বোনের বিবাহের জন্য প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়। এরপর সরকারি স্কুল ভবনটিকে সুন্দরভাবে সাজানো হয়। স্কুলের ক্যাম্পাসটি বিবাহের প্রাসাদ বলে মনে হতে শুরু করে।
স্কুলটি হয়ে ওঠে বাপের বাড়ি

পূজা ও সুনীতার বিবাহের সাথে জড়িত সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান স্কুলের ক্যাম্পাসে সম্পন্ন করা হয়। গত প্রায় দশ দিন ধরে স্কুলের পরিবেশ সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয়েছে। হলুদ, मेहंदी, হলুদ চাল এবং মহিলা সঙ্গীত সহ সমস্ত শুভ অনুষ্ঠান এখানেই আয়োজিত হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে স্কুলের মহিলা শিক্ষিকারা মা ও আত্মীয়ের ভূমিকা পালন করেন।
অন্যদিকে, গ্রামের মহিলারা শুভ গান গেয়ে উভয় মেয়েকে আশীর্বাদ করেন। বিবাহের আমন্ত্রণপত্রও গ্রাম থেকে ছাপানো হয়েছিল। কার্ড লেখা থেকে শুরু করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত স্কুলের কর্মী ও গ্রামবাসীরা একসাথে সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করে, যা এই বিবাহকে পুরো গ্রামের সম্মিলিত অনুষ্ঠানে পরিণত করে।
ফেয়ারার সময় স্কুল আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে
বিবাহের দিন স্কুলের ক্যাম্পাসে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী রাজস্থানী উপায়ে স্বাগত জানানো হয়। স্কুলের ছাত্রীরা রাজস্থানী পোশাকে অতিথিদের স্বাগত জানায়। স্কুলের কর্মী ও গ্রামবাসীরা পুঁতির মালা দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করেন।
ফেয়ারার আচারও স্কুলের ক্যাম্পাসে সম্পন্ন হয়। এই সময় অনেক শিক্ষক ও গ্রামবাসী আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তারা বলেন যে আজ তারা শিক্ষক নন, বরং এই মেয়েদের অভিভাবক।
বিবাহে খাবারের ব্যবস্থা এক স্থানেই করা হয়েছিল। সকল জাতি ও শ্রেণির মানুষ ভেদাভেদ ভুলে একই স্থানে বসে খাবার খেলেন। এই দৃশ্য সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়। সন্ধ্যায় ফেয়ারার আচার সম্পন্ন হয় এবং উভয় বোন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
মেয়েদের ভাষায়
পূজার বিয়ে হয় মকরানার কাছে মানানা গ্রামের বাসিন্দা মহেন্দ্রের সাথে এবং সুনীতার বিয়ে হয় ডিডওয়ানা এলাকার কিচাক গ্রামের বাসিন্দা নরসির সাথে।
পূজা আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, ‘আজ আমাদের কারণে পুরো গ্রাম এক হয়েছে। বাবার অভাব সবসময় অনুভব করব, কিন্তু এটা জেনে আনন্দ হয় যে আজ পুরো গ্রাম আমাদের পরিবারের মতো পাশে দাঁড়িয়ে আছে।’
সুনীতাও বলেন যে তারা কখনই একা অনুভব করেনি। প্রতিটি পদক্ষেপে স্কুলের কর্মী ও গ্রামবাসীদের সমর্থন পেয়েছেন।
পঞ্চায়েত সমিতি সদস্য মহেন্দ্র শেখাওয়াত বলেন যে অধ্যক্ষ হরবীর সিং জাখড়ের এই উদ্যোগ পুরো গ্রামের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি বলেন, ‘এটি কেবল দুটি মেয়ের বিবাহ নয়, বরং সমাজে পরিবর্তনের সূচনা। এখন এই মেয়েরা কেবল স্কুলের নয়, পুরো গ্রামের মেয়ে।’










