শীত এলেই জ্বর, সর্দি-কাশি আর ভাইরাল সংক্রমণের দাপট বাড়ে। এই সময় শরীর সুস্থ রাখতে সবচেয়ে জরুরি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। আর সেই প্রতিরোধ ক্ষমতার বড় ভরসা হল পেটের স্বাস্থ্য। প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ দই পেট ভালো রাখে ঠিকই, কিন্তু প্রশ্ন একটাই—শীতে টক দই খেলে কি ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি বাড়ে? কী বলছেন চিকিৎসকরা?
হজমশক্তি বাড়াতে শীতে দই অপরিহার্য
শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও বদহজমের সমস্যা অনেকেরই বাড়ে। দই অন্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রেখে হজমশক্তি উন্নত করে। তাই শীতে পেটের গণ্ডগোল এড়াতে নিয়মিত দই খাওয়া বিশেষভাবে উপকারী।

ত্বক ও চুলের শুষ্কতা কমাতে দই
ঠান্ডার মরশুমে ত্বক ও চুল রুক্ষ হয়ে পড়ে। দইয়ে থাকা ভিটামিন বি, জিঙ্ক ও প্রোটিন ত্বকে পুষ্টি জোগায় এবং চুলের গোড়া মজবুত করে। শীতে নিয়মিত দই খেলে ত্বকের জেল্লা বজায় থাকে।
ওজন নিয়ন্ত্রণেও দই কার্যকর
বালিয়ার সরকারি আয়ুর্বেদিক হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. বন্দনা তিওয়ারির মতে, দই ওজন কমাতে দারুণ সাহায্য করে। শীতে খিদে বেশি পায়, আর দইয়ে উচ্চমাত্রায় প্রোটিন ও কম ফ্যাট থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে।

হাড় ও জয়েন্টের ব্যথায় উপকার
দইয়ে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি, যা হাড় ও জয়েন্ট শক্ত রাখতে সাহায্য করে। শীতকালে যাঁদের গাঁটে ব্যথা বাড়ে, তাঁদের জন্য দই হতে পারে প্রাকৃতিক সাপোর্ট ফুড।
ক্লান্তি কমিয়ে শরীরে এনার্জি জোগায়
শীতকালে অলসভাব ও ক্লান্তি অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। দই শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং এনার্জি লেভেল বজায় রাখে।

শীতে দই খেলে কি সত্যিই ঠান্ডা লাগে?
অনেকের ধারণা, শীতে দই খেলে সর্দি-কাশি বাড়ে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, দই খাওয়ার সঙ্গে ঠান্ডা লাগার কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। বরং পরিমিত পরিমাণে দই খেলে শরীর আরও সুস্থ থাকে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় বিকেল ৫টার মধ্যে দই খাওয়া।
শীতকালে দই খেলে সর্দি-কাশি বাড়ে—এমন ধারণা বহুদিনের। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, দই আসলে প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ এক সুপারফুড। হজম থেকে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা—সবেতেই দইয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জানুন শীতে দই খাওয়া নিয়ে চিকিৎসকের মতামত।













