১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব ভারতীয় শেয়ারবাজারে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব সোমবারের লেনদেনে প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রারম্ভিক লেনদেনেই BSE Sensex ১,৩০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়, যদিও প্রি-ওপেন সেশনে সূচকটি একসময় ৪,২০০ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। এই পতন বাজারে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দেয়।
এই পতনের একটি প্রধান কারণ কাঁচা তেলের দামের তীব্র বৃদ্ধি। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে ভারতের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি মূল্যস্ফীতি ও কর্পোরেট খরচ বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে।
প্রারম্ভিক লেনদেনে BSE Sensex ১,৬০০ পয়েন্টের বেশি কমে যায়। সকাল প্রায় ৯:১৮ মিনিটে, সেনসেক্স ১,৬১৩.০৯ পয়েন্ট (২.০৮%) হ্রাস পেয়ে ৭৫,৯৩৭.১৬-এ লেনদেন করছিল। একই সময়ে, Nifty 50 সূচক ৪৬৯.৬৫ পয়েন্ট (১.৯৫%) কমে ২৩,৫৮০.৯৫-এ পৌঁছায়। প্রি-ওপেনিং সেশনে সেনসেক্স একসময় ৪,২০০ পয়েন্ট পর্যন্ত নিচে নেমেছিল, যা বৈশ্বিক ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার প্রতিফলন।
![]()
বাজার পতনের প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার ব্যর্থতা চিহ্নিত করা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৭–৮% বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারের উপরে পৌঁছেছে, যা বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
সেক্টরভিত্তিক সূচকগুলিতে ব্যাপক পতন দেখা গেছে। Nifty PSU এবং রিয়েলটি সূচক ৩% এর বেশি কমেছে। অটো, ব্যাংকিং, ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস, মিডিয়া এবং কনজিউমার ডিউরেবলস খাতে ২% এর বেশি পতন হয়েছে। অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সেক্টরেও চাপ লক্ষ্য করা গেছে।
সেনসেক্সের প্রধান শেয়ারগুলির মধ্যে IndiGo, Asian Paints, Bajaj Finance, Maruti Suzuki এবং Bajaj Finserv-এ সর্বাধিক পতন রেকর্ড হয়েছে। শুধুমাত্র Sun Pharmaceutical Industries-এর শেয়ার সীমিত বৃদ্ধি দেখিয়ে ব্যতিক্রম হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
বাজার পতন বড় শেয়ারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। Nifty Midcap 100 সূচক ২.২৮% কমেছে এবং Nifty Smallcap 100 সূচক ২.৬০% হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে, ভারতীয় মুদ্রাও চাপে ছিল। রুপি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ০.৬% দুর্বল হয়ে ৯৩.২৮-এ খুলেছে, যেখানে আগের সেশনে এটি ৯২.৭২-এ বন্ধ হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন মূলত বাহ্যিক কারণ দ্বারা প্রভাবিত, দেশীয় অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে নয়। তবে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এবং কাঁচা তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকলে বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা যেতে পারে।










