ভারতীয় শেয়ারবাজারে টানা দ্বিতীয় কার্যদিবসেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বৈশ্বিক বাজার থেকে প্রাপ্ত অনুকূল সংকেত এবং বিনিয়োগকারীদের উন্নত মনোভাবের মধ্যে মঙ্গলবার দেশীয় ইকুইটি বাজার ঊর্ধ্বগতিতে লেনদেন শুরু করে। প্রাথমিক লেনদেনে বিএসই সেনসেক্স 76,000-এর গুরুত্বপূর্ণ স্তর অতিক্রম করতে সক্ষম হয়, অন্যদিকে এনএসই নিফটিও শক্তিশালী অবস্থানে লেনদেন করতে দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস, স্থিতিশীল অপরিশোধিত তেলের দাম এবং প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আসন্ন নীতিগত বৈঠকের আগে বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক মনোভাব ভারতীয় বাজারকে সমর্থন দিচ্ছে।
মঙ্গলবারের প্রাথমিক লেনদেনে বিএসইয়ের 30 শেয়ারভিত্তিক সেনসেক্স 262 পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে 76,526 স্তরে খোলে। একই সময়ে, এনএসই নিফটি 70 পয়েন্ট বেড়ে 23,924 স্তরে পৌঁছে যায়। বাজারে ব্যাংকিং, আর্থিক পরিষেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অটোমোবাইল খাতের শেয়ারে ক্রয় প্রবণতা দেখা যায়। বিনিয়োগকারীদের মতে, দেশীয় অর্থনীতির স্থিতিশীল অবস্থা এবং বৈশ্বিক ঝুঁকি হ্রাস ভারতীয় বাজারকে সমর্থন করতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে শক্তিশালী করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার খবর বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে। তবে বিনিয়োগকারীরা এখনও বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আসন্ন সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন।
![]()
সুদের হারে সম্ভাব্য পরিবর্তন বৈশ্বিক মূলধন প্রবাহ এবং উদীয়মান বাজারগুলোর পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে। ভারতীয় বাজারও এসব বৈশ্বিক সংকেতের প্রতি সংবেদনশীল থাকায়, আগামী দিনগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
মঙ্গলবার এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে মিশ্র প্রবণতা দেখা যায়। জাপানের শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের মধ্যে সীমিত ওঠানামার সঙ্গে লেনদেন করে। সেখানে বাজারের নজর ছিল মুদ্রানীতি এবং সুদের হারের ওপর। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়, जबकि হংকংয়ের বাজারে সীমিত দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়।
এশীয় বাজারগুলোর এই মিশ্র পারফরম্যান্স বিনিয়োগকারীদের সতর্ক কৌশলের প্রতিফলন। বৈশ্বিক পর্যায়ে বিনিয়োগকারীরা অর্থনৈতিক তথ্য, মুদ্রাস্ফীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যৎ নীতির মূল্যায়ন করছেন।
আগের কার্যদিবসে মার্কিন শেয়ারবাজার শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে, যার ইতিবাচক প্রভাব বৈশ্বিক বাজারেও পড়েছে। প্রধান মার্কিন সূচকগুলোতে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি রেকর্ড হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার করেছে। তবে মার্কিন ফিউচার্স বাজারে সীমিত ওঠানামা দেখা গেছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা আসন্ন অর্থনৈতিক তথ্য এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য মার্কিন বাজারের দিকনির্দেশনা এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার প্রভাব ভারতীয় বাজারসহ অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির ওপরও পড়ে।










