বর্ষাকাল হোক বা গরমের দিন, বাথরুমের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থেকে তৈরি হওয়া দুর্গন্ধ অনেক সময় পুরো বাড়ির পরিবেশ নষ্ট করে দেয়। বাজারচলতি রুম ফ্রেশনার সাময়িক স্বস্তি দিলেও তার প্রভাব বেশিক্ষণ থাকে না। তবে মাত্র কয়েক টাকার খরচে একটি সহজ ঘরোয়া পদ্ধতিতে বাথরুমকে রাখা যেতে পারে সুগন্ধময় ও সতেজ।
স্যাঁতসেঁতে পরিবেশই দুর্গন্ধের প্রধান কারণ
বাথরুমে দীর্ঘ সময় আর্দ্রতা জমে থাকলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ড্রেন, কোণা কিংবা ভেজা মেঝেতে জমে থাকা ময়লা থেকেই বেশিরভাগ সময় দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। তাই শুধুমাত্র সুগন্ধি ব্যবহার করলেই সমস্যার মূল কারণ দূর হয় না।
চকও হতে পারে প্রাকৃতিক ফ্রেশনার
অনেকেই জানেন না, সাধারণ সাদা চক আর্দ্রতা শোষণ করার ক্ষমতা রাখে। চকের উপর কয়েক ফোঁটা সুগন্ধি বা এসেনশিয়াল অয়েল লাগিয়ে বাথরুমে রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে সুবাস ছড়ায়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত আর্দ্রতাও কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।
কেন কার্যকর এই পদ্ধতি?
সুতির কাপড় ও চক দু’টিই সুগন্ধি তরল শোষণ করে দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে তা বাতাসে ছড়াতে পারে। ফলে বারবার স্প্রে করার প্রয়োজন পড়ে না। প্রয়োজন হলে কয়েক ঘণ্টা পর আবার কয়েক ফোঁটা সুগন্ধি যোগ করলেই সুবাস ফিরে আসে।
শুধু সুগন্ধ নয়, পরিচ্ছন্নতাও জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাথরুমের দুর্গন্ধের স্থায়ী সমাধান পেতে হলে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। ড্রেন পরিষ্কার রাখা, এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করা এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা উচিত। ব্যবহারের পর বাথরুম যতটা সম্ভব শুকনো রাখলে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বৃদ্ধি কমে।
বর্ষাকালে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন
বর্ষার সময়ে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় বাথরুমে স্যাঁতসেঁতে ভাব বেশি হয়। তাই এই সময় নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা এবং বাথরুমে জমে থাকা জল দ্রুত সরিয়ে ফেলা জরুরি। তবেই দুর্গন্ধের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বাথরুমের দুর্গন্ধ দূর করতে অনেকেই দামি এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করেন। কিন্তু ঘরেই থাকা সাধারণ সুতির কাপড় বা একটি সাদা চক ব্যবহার করে দীর্ঘক্ষণ সতেজ সুবাস বজায় রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি এই সহজ কৌশল দুর্গন্ধ কমাতে কার্যকর হতে পারে।













