প্রোস্টেট ক্যানসারকে চিকিৎসকরা প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলে উল্লেখ করেন। কারণ, রোগটি শরীরে বাসা বাঁধলেও শুরুতে তেমন কোনও উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগ ধরা পড়ে উন্নত পর্যায়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন, বীর্যে বা প্রস্রাবে রক্ত, হাড়ে ব্যথা কিংবা অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলিকে কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়।
প্রোস্টেট ক্যানসার কী? জানুন শরীরের কোন অংশে আঘাত হানে এই রোগ
প্রোস্টেট হল পুরুষদের শরীরে মূত্রাশয়ের নিচে অবস্থিত একটি ছোট গ্রন্থি, যার আকৃতি অনেকটা আখরোটের মতো। এই গ্রন্থি পুরুষ প্রজনন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যখন প্রোস্টেটের কোষগুলি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তখন ক্যানসারের সৃষ্টি হয়। বিশ্বজুড়ে পুরুষদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে এবং বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
প্রস্রাবের সমস্যাকে হালকাভাবে নেবেন না
প্রোস্টেট ক্যানসারের অন্যতম সাধারণ লক্ষণ হল প্রস্রাব সংক্রান্ত অসুবিধা। অনেকেই প্রথমদিকে প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়া, প্রস্রাব শুরু করতে সমস্যা হওয়া অথবা ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ অনুভব করার মতো সমস্যার সম্মুখীন হন। বিশেষ করে রাতে বারবার বাথরুমে যেতে হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যদিও এই উপসর্গগুলির পিছনে অন্য কারণও থাকতে পারে, তবুও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শরীরের এই পরিবর্তনগুলি হতে পারে বড় সতর্কবার্তা
রোগটি অগ্রসর হলে আরও কিছু গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন প্রস্রাব বা বীর্যের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া, কোমর, শ্রোণী বা হাড়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, যৌনক্ষমতা হ্রাস এবং উত্থানজনিত সমস্যা। কিছু ক্ষেত্রে প্রোস্টেট বড় হয়ে মলদ্বারের উপর চাপ সৃষ্টি করলে কোষ্ঠকাঠিন্যও দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া ও ক্ষুধামন্দাও প্রোস্টেট ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে।
৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের কেন বেশি ঝুঁকি?
চিকিৎসকদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রোস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনাও বাড়ে। বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সি পুরুষদের মধ্যে এই রোগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এছাড়া পরিবারের কারও প্রোস্টেট ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই পারিবারিক ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্ক্রিনিং ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জীবনযাত্রার অভ্যাসও বাড়াতে পারে বিপদ
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার, স্থূলতা, ধূমপান এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চলা এই রোগের সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
আধুনিক চিকিৎসায় বাড়ছে সুস্থতার সম্ভাবনা
বর্তমানে প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। রেডিয়েশন থেরাপি, অস্ত্রোপচার, হরমোন থেরাপি এবং আধুনিক ওষুধের সাহায্যে অনেক ক্ষেত্রেই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি যত তাড়াতাড়ি ধরা পড়বে, চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনাও তত বেশি থাকবে।
প্রোস্টেট ক্যানসার বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সাধারণ পুরুষ-সংক্রান্ত ক্যানসার। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ বছর বয়সের পর থেকেই এই রোগের ঝুঁকি বাড়তে শুরু করে এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সি পুরুষদের ক্ষেত্রে আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্ট না হওয়ায় সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।













