শরদ পাওয়ার বলেছেন, দেশের সম্মান ও পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা উচিত নয় এবং জাতীয় স্বার্থ সর্বদা দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা প্রয়োজন। মুম্বাইয়ে মহারাষ্ট্রের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)-র সভাপতি শরদ পাওয়ার বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শে পার্থক্য থাকলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের মর্যাদা বজায় রাখতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন, তা স্বীকার করা উচিত।
পুনেতে লক্ষ্মণরাও গুট্টে রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত প্রাক্তন রাজ্য ও জেলা পদাধিকারীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাওয়ার এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে সম্মিলিত প্রচেষ্টার সুযোগ এলে সব রাজনৈতিক দল ও নেতাদের একটি অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, তবে জাতীয় সম্মান ও পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়গুলোতে ঐক্য প্রয়োজন।
পাওয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা এবং ভারতের ভাবমূর্তি শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক মঞ্চে ভারতের মর্যাদা বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রে মতের ভিন্নতা স্বাভাবিক হলেও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে পিছনে রাখা উচিত। তাঁর মতে, দেশের ভাবমূর্তি ও সম্মান যে কোনও দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে।
বক্তব্যে পাওয়ার বলেন, গণতন্ত্রে মতভেদ ও বিতর্ক প্রয়োজনীয় হলেও দেশের মর্যাদা ও স্বার্থের প্রশ্নে সকলের একসঙ্গে দাঁড়ানো উচিত। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর লক্ষ্য আলাদা হতে পারে, তবে জাতীয় মর্যাদা রক্ষা করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব এবং এ ধরনের বিষয়ে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে পিছনে রাখা প্রয়োজন।
![]()
নিজের ভাষণে শরদ পাওয়ার দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে ঘিরে কয়েকটি পুরনো অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৫৮ সালে ১৮ বছর বয়সে তিনি বারামতি থেকে পুনেতে আসেন, কারণ সে সময় তাঁর শহরে কলেজ ছিল না। যুব আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ধীরে ধীরে সাংগঠনিক রাজনীতিতে এগিয়ে যান।
পাওয়ার স্মরণ করেন, তিন মূর্তি ভবনে জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি কৃষক ও যুবকদের নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন প্রস্তুত করেছিলেন, কিন্তু নেহরুর ব্যক্তিত্বের প্রভাবে তিনি সেই প্রশ্নগুলো করতে ভুলে যান।
তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে ঘিরেও একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাওয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, সোভিয়েত ইউনিয়নে এক সরকারি সফরের সময় ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে ভারতের মতো বৃহৎ গণতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা বজায় রাখা জরুরি এবং কোনও পরিস্থিতিতেই তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।
পাওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কার্যপদ্ধতির প্রশংসা এর আগেও তিনি করেছেন। ২০২২ সালে মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক সক্ষমতার প্রশংসা করে বলেছিলেন, মোদির কাজের ধরনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং তা বাস্তবায়নের দৃঢ়তা দেখা যায়। তিনি আরও বলেছিলেন, কোনও কাজ শুরু করার পর তা শেষ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ওপর মোদি জোর দেন।
পাওয়ার বলেন, তাঁর রাজনৈতিক চিন্তা ও মতাদর্শ প্রধানমন্ত্রীর থেকে আলাদা হলেও জাতীয় সম্মান ও পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়গুলোতে একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।











