নলেন নয়, ডায়াবেটিসে ভরসা হতে পারে ‘তালের পাটালি’! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

তালের পাটালি কি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো? জেনে নিন এর উপকারিতা, ব্লাড সুগারের উপর প্রভাব ও বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।

ডায়াবেটিস থাকলে মিষ্টি খাওয়া মানেই ভয়— এমন ধারণা বহুদিনের। কিন্তু বাঙালির পাতে গুড়ের স্বাদ একেবারে বাদ দেওয়াও কঠিন। সেই জায়গাতেই এখন আলোচনায় এসেছে তালের পাটালি। সুন্দরবন ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই ঐতিহ্যবাহী গুড়কে অনেকেই চিনির তুলনায় ভালো বিকল্প হিসেবে দেখছেন। যদিও চিকিৎসকরা বলছেন, উপকারিতা থাকলেও পরিমিত খাওয়াই আসল চাবিকাঠি।

নলেন নয়, ডায়াবেটিসে ভরসা হতে পারে ‘তালের পাটালি’! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
তালের পাটালির স্বাদে মুগ্ধ বাঙালি

চৈত্রের শেষ আর বৈশাখের শুরুতে তাল গাছের রস থেকে তৈরি হয় তালের গুড় বা তালের পাটালি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গ্রামাঞ্চলে এই গুড় দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। পিঠে, পায়েস, সেমাই কিংবা শরবতে এর ব্যবহার বাঙালির রান্নাঘরে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।

শরীরের জন্য কেন উপকারী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, তালের পাটালিতে কিছু প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান ও আয়রন থাকে, যা শরীরের হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং হজমে সহায়তা করতেও কার্যকর বলে মনে করা হয়। অনেকেই ঠান্ডা-কাশির সময়ে উষ্ণ জলে বা চায়ে তালের গুড় ব্যবহার করেন।

নলেন নয়, ডায়াবেটিসে ভরসা হতে পারে ‘তালের পাটালি’! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
ডায়াবেটিস রোগীরা কি খেতে পারবেন?

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ডায়াবেটিস রোগীরাও চিনির বদলে তালের পাটালি খেতে পারেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, যে কোনও গুড়েই প্রাকৃতিক চিনি থাকে। তাই এটি সাদা চিনির তুলনায় কিছুটা কম প্রক্রিয়াজাত হলেও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই সীমিত পরিমাণে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খাওয়া উচিত।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের সমস্যায় উপকার

গ্রামীণ চিকিৎসা ও ঘরোয়া পদ্ধতিতে তালের পাটালিকে অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে ব্যবহার করা হয়। উষ্ণ জলের সঙ্গে এটি খেলে হজমের সমস্যাতেও কিছুটা আরাম মেলে বলে অনেকে মনে করেন।

নলেন নয়, ডায়াবেটিসে ভরসা হতে পারে ‘তালের পাটালি’! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
ভেজালমুক্ত গুড় কেনার পরামর্শ

বিশিষ্ট চিকিৎসক জে এন হালদারের মতে, তালের পাটালি উপকারী হলেও বাজারে ভেজালের সমস্যা রয়েছে। তাই ভালো মানের ও বিশুদ্ধ গুড় কিনে খাওয়ার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। কারণ ভেজাল মেশানো গুড়ে অতিরিক্ত চিনি বা রাসায়নিক থাকলে তা শরীরের ক্ষতি করতে পারে।

পরিমিত খাওয়াই সবচেয়ে জরুরি

পুষ্টিবিদদের মতে, ‘প্রাকৃতিক’ শব্দ শুনেই অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে চলবে না। গুড় যতই স্বাস্থ্যকর হোক, তাতে ক্যালোরি ও শর্করা থাকে। তাই বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করেই খেতে হবে।

নলেন নয়, ডায়াবেটিসে ভরসা হতে পারে ‘তালের পাটালি’! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
চিনি বা সাধারণ গুড়ের বদলে অনেকেই এখন খুঁজছেন তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর বিকল্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, তালের পাটালি স্বাদে অনন্য হওয়ার পাশাপাশি শরীরের জন্যও উপকারী হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পরিমাণ মেনে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a comment