বিশ্ববাজারে রুপোর দর লাফিয়ে বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতীয় বাজারে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে Bank of America-র কমোডিটি কৌশলবিদ Michael Widmer ইঙ্গিত দিয়েছেন—২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দাম আউন্সপ্রতি ৩০৯ ডলার ছুঁতে পারে। সেই হিসাব ভারতীয় মুদ্রায় কষলে এক কেজি রুপোর দাম ১০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি পৌঁছনো অসম্ভব নয়।
বিশ্ববাজারে দামের সম্ভাব্য লাফ
বিশ্লেষকদের মতে, রুপোর দামে বড় উত্থানের পেছনে প্রধান কারণ হতে পারে সরবরাহ ঘাটতি ও শিল্পক্ষেত্রে বাড়তি চাহিদা। বিশেষ করে সোলার প্যানেল, ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) ও ইলেকট্রনিক শিল্পে রুপোর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। যদি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ৩০৯ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছয়, তবে তা হবে বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর।
ভারতে দাম নির্ধারণের অঙ্ক কীভাবে কষা হয়
ভারতে রুপোর দাম নির্ধারণ হয় মূলত USD/oz থেকে INR/kg-এ রূপান্তরের মাধ্যমে।
১ আউন্স = ৩১.১০৩৫ গ্রাম এবং ১ কেজি ≈ ৩২.১৫ আউন্স।
ধরা যাক আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ৩০৯ ডলার/আউন্স এবং ডলার-রুপির বিনিময় হার ₹৮৫—
৩০৯ × ৮৫ = ₹২৬,২৬৫ (প্রতি আউন্স)।
₹২৬,২৬৫ × ৩২.১৫ ≈ ₹৮,৪৪,৫০০ (প্রতি কেজি)।
এর সঙ্গে যুক্ত হবে—
আমদানি শুল্ক (১৫%)
জিএসটি (৩%)
স্থানীয় প্রিমিয়াম ও মেকিং চার্জ
সব মিলিয়ে দাম পৌঁছতে পারে প্রায় ₹১০,০৫,০০০ প্রতি কেজি।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি কী বলছে
সম্প্রতি সোনা ও রুপোর দামে সামান্য সংশোধন দেখা গেছে। Indian Bullion Jewellers Association (IBJA)-র তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ক্যারাট সোনার দাম কিছুটা কমলেও দীর্ঘমেয়াদে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা বজায় রয়েছে। রুপোর ক্ষেত্রেও স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা থাকলেও বড় ছবিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট।
তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি
বিশেষজ্ঞরা ২০২৬ সালের জন্য তিনটি সম্ভাব্য দামের রূপরেখা দিয়েছেন—
বেস কেস (১৩৫ ডলার/আউন্স): প্রায় ₹৪,৪০,০০০ প্রতি কেজি
মিড কেস (২০০ ডলার/আউন্স): প্রায় ₹৬,৫০,০০০ প্রতি কেজি
হাই কেস (৩০৯ ডলার/আউন্স): প্রায় ₹১০,০৫,০০০ প্রতি কেজি
অর্থাৎ ১০ লক্ষ টাকার অঙ্কটি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল।
মধ্যবিত্তের উপর প্রভাব কতটা?
ভারতে রুপো শুধু বিনিয়োগ নয়, গয়না ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দাম যদি সত্যিই ১০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি পৌঁছয়, তবে বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে খরচ বাড়বে। পাশাপাশি ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্যও বাজারে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
২০২৬ সালে রুপোর দামে নজিরবিহীন উত্থানের ইঙ্গিত দিলেন আন্তর্জাতিক কমোডিটি বিশ্লেষকরা। ডলার-রুপির বিনিময় হার, শিল্পে চাহিদা বৃদ্ধি এবং আমদানি শুল্ক–জিএসটি যোগ করলে এক কেজি রুপোর দাম ১০ লক্ষ টাকাও ছুঁতে পারে বলে দাবি। তবে এটি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পরিস্থিতি—বাজারের বাস্তব চিত্র নির্ভর করবে যোগান-চাহিদা ও বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথের উপর।













