এসআইআর শুনানির আগেই অস্বস্তি! প্রশিক্ষণ শেষ হতেই অব্যাহতি চেয়ে সিইও দপ্তরে শতাধিক মাইক্রো অবজার্ভার

এসআইআর শুনানির আগেই অস্বস্তি! প্রশিক্ষণ শেষ হতেই অব্যাহতি চেয়ে সিইও দপ্তরে শতাধিক মাইক্রো অবজার্ভার

খসড়া ভোটার তালিকায় নাম থাকা প্রায় ৩২ লক্ষ ভোটারের শুনানি শুরু হতে চলেছে শনিবার থেকে। কিন্তু তার আগেই রাজ্যের নির্বাচন প্রস্তুতিতে তৈরি হল অস্বস্তির ছবি। প্রশিক্ষণ শেষ হতেই রাজ্যের সিইও দপ্তরে অব্যাহতির আবেদন জমা দিলেন শতাধিক মাইক্রো অবজার্ভার। ফলে এসআইআর শুনানির প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

প্রশিক্ষণ শেষ হতেই কেন তৈরি হল অনিশ্চয়তা?

বুধবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে দু’দফায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এসআইআর শুনানির কাজে নিযুক্ত প্রায় ৪৬০০ জন কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিককে। তাঁদেরই বিভিন্ন মহকুমায় মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষণ শেষের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শতাধিক আধিকারিক সিইও দপ্তরে এসে অব্যাহতির আবেদন জানান। এতে শুনানি শুরুর মুখে প্রশাসনিক চাপ বেড়েছে।

কোন কোন কারণ দেখিয়ে রেহাই চাওয়া হচ্ছে?

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, অব্যাহতি চাওয়া আধিকারিকরা বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন।

কেউ মায়ের গুরুতর অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন

কেউ প্রতিবন্ধী শংসাপত্র জমা দিয়েছেন

একজন আধিকারিক জানিয়েছেন, ২৮ ডিসেম্বর তাঁর রিজিওনাল ব্যাঙ্ক অফিসার পরীক্ষার দিন

কারও আবার স্ত্রী নাইট শিফটে কর্মরত থাকায় নাবালক সন্তান দেখভালের সমস্যা

এছাড়াও দূরবর্তী জেলায় পোস্টিং পাওয়ায় দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ

এই পরিস্থিতিতে কমিশনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—মাইক্রো অবজার্ভারদের প্রথমে সংশ্লিষ্ট মহকুমা শাসকের কাছে রিপোর্ট করতেই হবে।তারপরই ব্যক্তিগত কারণ বিবেচনা করে অব্যাহতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কমিশনের মতে, শুনানি প্রক্রিয়ায় মাইক্রো অবজার্ভাররা প্রশাসনের “চোখ ও কান”, তাই তাঁদের অনুপস্থিতি বরদাস্ত করা যাবে না।

মাইক্রো অবজার্ভারদের দায়িত্ব কী কী?

প্রশিক্ষণে জানানো হয়েছে, শুনানি পর্বে তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—

বিএলওদের ডিজিটাল এনুমারেশন ফর্ম যাচাই

জন্ম ও মৃত্যুর নথির সঙ্গে ভোটার তালিকার মিল খতিয়ে দেখা

দাবি ও আপত্তির নথিপত্র পরীক্ষা

শুনানি প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি

তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট তৈরি ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে সহায়তা

এই কাজগুলির উপরেই নির্ভর করছে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা।

এসআইআর ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তুঙ্গে

এসআইআর পদ্ধতি নিয়েই শুরু থেকেই বিতর্ক চলছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের অভিযোগ,

অন্যদিকে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, সব রাজ্যের সামাজিক বাস্তবতা এক না হওয়া সত্ত্বেও একই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়াই বর্তমান সমস্যার মূল।

শনিবার থেকে শুরু হতে চলা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) শুনানির আগেই রাজ্যের নির্বাচন ব্যবস্থায় চাপ। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলেন শতাধিক মাইক্রো অবজার্ভার। কমিশন স্পষ্ট করেছে—রিপোর্ট না করলে রেহাই নয়।

 

Leave a comment