বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায় এবং মৃত কোষ জমতে শুরু করে। ফলে ত্বক হয়ে ওঠে রুক্ষ ও প্রাণহীন। অনেকেই এই সমস্যার সমাধানে দামি প্রসাধনীর দিকে ঝোঁকেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ঘরোয়া পরিচর্যা করলে ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব।
বয়স বাড়লেই কেন কমে ত্বকের জেল্লা
৫০ বছর পার হলেই শরীরে কোলাজেন উৎপাদন কমে যায়। ফলে ত্বক ধীরে ধীরে ঢিলে হয়ে পড়ে এবং বলিরেখা দেখা দিতে শুরু করে। এই সময় ত্বকের ভেতর থেকে পুষ্টি দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা অনেকটাই বজায় রাখা যায়।
মধু ও দারচিনির ম্যাজিক
ত্বকের কোমলতা বজায় রাখতে Honey অত্যন্ত কার্যকর। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এক চামচ দারচিনি গুঁড়োর সঙ্গে তিন চামচ মধু মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন প্রায় ১০ মিনিট। এরপর ঈষদুষ্ণ জলে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিনবার এই প্যাক ব্যবহার করলে ত্বকের খসখসে ভাব অনেকটাই কমে।
গাজর ও বেসনের ফেসপ্যাক
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে Carrot অত্যন্ত উপকারী। গাজরের পেস্টের সঙ্গে দু’চামচ বেসন ও সামান্য দুধ মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। মুখ ও হাতে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক রোদে পোড়া দাগ কমাতে এবং ত্বকের ট্যান দূর করতে সাহায্য করে।
কলা ও দইয়ের পুষ্টিতে ত্বক হবে মসৃণ
ত্বকের গভীর পুষ্টির জন্য Banana ও টক দইয়ের মিশ্রণ খুবই কার্যকর। আধা পাকা কলার সঙ্গে এক চামচ টক দই ও সামান্য হলুদ মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। নিয়মিত ব্যবহার করলে বলিরেখাও কমে যেতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের জেল্লা কমে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা করলে ৫০ বছর পার করেও ত্বক রাখা সম্ভব টানটান ও উজ্জ্বল। দামি প্রসাধনী নয়, বরং ঘরোয়া প্রাকৃতিক উপাদান যেমন Honey, Carrot ও Banana দিয়েই ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়। নিয়মিত ব্যবহার করলে বলিরেখা কমে এবং ত্বক হয়ে ওঠে মসৃণ ও সতেজ।













