রাতে কম্বলের নীচে স্মার্টফোনে চোখ? ঘুম নষ্ট থেকে চোখ–ঘাড়ের মারাত্মক ক্ষতি, সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা

রাতে কম্বলের নীচে স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন? ঘুম নষ্ট, চোখের ক্ষতি ও সার্ভিকাল সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে। জানুন চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ।

ঘুমোতে যাওয়ার আগে স্মার্টফোন না দেখলে যেন ঘুমই আসে না—এমন অভ্যাস এখন বহু মানুষের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের। কিন্তু এই অভ্যাসই যে ধীরে ধীরে শরীরের উপর ভয়ংকর প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে এবার সরাসরি সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা।

স্মার্টফোনে আসক্তি বাড়ছে তরুণদের মধ্যে

চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্ম—সবার মধ্যেই স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। দিনে হোক বা রাতে, অবসর পেলেই ফোনে চোখ রাখছেন অনেকে, যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে উঠছে।

রাতে ফোন ব্যবহারেই ঘুমের সর্বনাশ

মোরাদাবাদ জেলা হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. বিপি সিং জানান, রাতে ঘুমানোর আগে স্মার্টফোন ব্যবহার করলে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের চক্র ব্যাহত হয়। বিশেষ করে কম্বলের নীচে ফোন ব্যবহার করলে চোখের উপর চাপ অনেকগুণ বেড়ে যায়।

নীল আলোই সবচেয়ে বড় শত্রু

বিশেষজ্ঞ মায়াঙ্ক বিজয়বর্গীয়ের মতে, স্মার্টফোন থেকে নির্গত নীল আলো (Blue Light) মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়, ঘুম ভেঙে যায় এবং অনিদ্রার সমস্যা তৈরি হয়।

ঘাড় বাঁকিয়ে ফোন দেখার মারাত্মক ফল

বিছানায় শুয়ে ফোন ব্যবহার করার সময় ঘাড় স্বাভাবিক অবস্থানে থাকে না। এর ফলে সার্ভিকাল স্পন্ডিলাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে। অনেক ক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথা ঘোরা, ঘাড়ে ব্যথা ও দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়ার সমস্যাও দেখা যাচ্ছে।

কখন ফোন বন্ধ করবেন?

চিকিৎসকদের পরামর্শ, রাতের পূর্ণ ঘুম নিশ্চিত করতে হলে ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টা আগে স্মার্টফোন ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।

কী করলেই মিলবে সুরক্ষা?

বিশেষজ্ঞরা মোবাইল ব্যবহার সীমিত করার পাশাপাশি নিয়মিত সার্ভিকাল ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে ঘাড় ও চোখের উপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে কিংবা কম্বলের নীচে লুকিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার শরীরের জন্য ডেকে আনছে একাধিক বিপদ। চোখের ক্ষতি, ঘুমের সমস্যা ও সার্ভিকাল স্পন্ডিলাইটিসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a comment