কৃষ্ণের রথের আদলে তৈরি সোনার মতো ঝলমলে মন্দির! ভিতরে অধিষ্ঠিত নীলবর্ণা মা কালী, ৩০ লক্ষ টাকার এই অপূর্ব দেবালয় রয়েছে বাংলার কোথায়?

কৃষ্ণের রথের আদলে তৈরি ৩০ লক্ষ টাকার কৃষ্ণকালী মন্দির রয়েছে বাঁকুড়ার সোনামুখীতে। ১৯০টি বৈষ্ণব পরিবারের উদ্যোগে এখানে বৈষ্ণব রীতিতে পূজিত হন নীলবর্ণা মা কালী।

বাংলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন মন্দির এবং দেবদেবীর মাহাত্ম্য ঘিরে নানা কাহিনি। তবে বাঁকুড়ার সোনামুখীর এই কৃষ্ণকালী মন্দির যেন একেবারেই অন্যরকম। সোনালি কারুকাজে সাজানো মন্দিরের স্থাপত্য দেখলে প্রথমে মনে হবে কোনও স্বর্ণদেবালয়। আবার মন্দিরের গঠন দেখে মনে পড়বে শ্রীকৃষ্ণের রথের কথা। অথচ এই মন্দিরের গর্ভগৃহে বিরাজ করছেন মা কালী, তাও আবার নীলবর্ণা রূপে। ধর্মীয় ঐতিহ্য, অভিনব স্থাপত্য এবং বৈষ্ণব সংস্কৃতির মেলবন্ধনে ইতিমধ্যেই পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই মন্দির।

 কৃষ্ণের রথের আদলে তৈরি সোনার মতো ঝলমলে মন্দির! ভিতরে অধিষ্ঠিত নীলবর্ণা মা কালী, ৩০ লক্ষ টাকার এই অপূর্ব দেবালয় রয়েছে বাংলার কোথায়?
সোনার মতো ঝলমলে মন্দির, খরচ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা

বাঁকুড়ার সোনামুখী শহরের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কীতডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত এই কৃষ্ণকালী মন্দির। মন্দিরের বাইরের নকশা এবং কারুকাজ এতটাই আকর্ষণীয় যে দূর থেকে দেখলেও চোখ আটকে যায়। শ্রীকৃষ্ণের রথের আদলে তৈরি এই দেবালয় নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।একদিনে অবশ্য তৈরি হয়নি এই মন্দির। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ধাপে ধাপে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন উদ্যোক্তারা। মন্দিরের দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সমুদ্র মন্থনের দৃশ্য। পাশাপাশি এখানে প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা এবং স্বামী বিবেকানন্দ।

চাঁদা ছাড়াই তৈরি হয়েছে ৩০ লক্ষ টাকার দেবালয়!

এই মন্দিরের নির্মাণকাহিনির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল, এর জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোনও চাঁদা সংগ্রহ করা হয়নি। উদ্যোক্তারা নিজেদের উদ্যোগেই দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে অর্থের জোগান দিয়ে নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।বর্তমানে মন্দিরের সৌন্দর্য শুধু এলাকার মানুষের কাছেই নয়, বাইরের দর্শনার্থীদের কাছেও আকর্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। টোটো কিংবা গাড়িতে করে যাওয়ার সময় অনেকেই মন্দিরের অভিনব স্থাপত্য দেখে থমকে দাঁড়ান।

 কৃষ্ণের রথের আদলে তৈরি সোনার মতো ঝলমলে মন্দির! ভিতরে অধিষ্ঠিত নীলবর্ণা মা কালী, ৩০ লক্ষ টাকার এই অপূর্ব দেবালয় রয়েছে বাংলার কোথায়?
১৯০টি বৈষ্ণব পরিবারের ঐতিহ্যে পূজিত হন নীলবর্ণা মা কৃষ্ণকালী

কীতডাঙ্গা এলাকার কৃষ্ণকালী মন্দিরের আরেকটি বিশেষত্ব হল এখানকার পুজোর রীতি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই এলাকায় প্রায় ১৯০টি বৈষ্ণব পরিবারের বসবাস। তাঁদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করেই এখানে কৃষ্ণকালীর আরাধনা হয়ে থাকে।সাধারণ কালীপুজোর তুলনায় এখানকার পুজোর আচার-অনুষ্ঠানে রয়েছে বৈষ্ণব প্রভাব। দেবীর নীলবর্ণ রূপও ভক্তদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। কালীপুজোর রাতে দেবীকে দর্শন করতে বহু মানুষের সমাগম হয়। পুজোকে ঘিরে গোটা এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ।

কালীপুজোয় মহাপ্রসাদের বিশেষ আয়োজন

কালীপুজো উপলক্ষে মন্দিরে থাকছে বিশেষ মহাপ্রসাদের ব্যবস্থা। বড় বড় কড়াইয়ে রান্না করা হবে দেবীর ভোগ। পরে সেই প্রসাদ ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত মন্দির চত্বরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়বে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা। ইতিমধ্যেই মন্দিরের সৌন্দর্য বহু মানুষের নজর কেড়েছে। কালীপুজোর সময় সেই আকর্ষণ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

 কৃষ্ণের রথের আদলে তৈরি সোনার মতো ঝলমলে মন্দির! ভিতরে অধিষ্ঠিত নীলবর্ণা মা কালী, ৩০ লক্ষ টাকার এই অপূর্ব দেবালয় রয়েছে বাংলার কোথায়?
মন্দির ঘিরে বদলে গিয়েছে এলাকার পরিচিতি

কৃষ্ণকালী কমিটির সম্পাদক চিত্তরঞ্জন মণ্ডলের কথায়, টোটো কিংবা গাড়িতে করে যাওয়ার সময় বহু মানুষ মন্দিরটি দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন। তাঁদের কাছে মন্দিরের সৌন্দর্যই এখন এলাকার অন্যতম পরিচয় হয়ে উঠেছে।তাঁর মতে, এই দেবালয়কে ঘিরে এলাকার রূপ ও পরিচিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। সাধারণ জনপদের মধ্যেই এমন দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারাও গর্বিত।

 কৃষ্ণের রথের আদলে তৈরি সোনার মতো ঝলমলে মন্দির! ভিতরে অধিষ্ঠিত নীলবর্ণা মা কালী, ৩০ লক্ষ টাকার এই অপূর্ব দেবালয় রয়েছে বাংলার কোথায়?
বাঁকুড়ার সোনামুখী শহরের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কীতডাঙ্গা এলাকায় রয়েছে এক অসাধারণ কৃষ্ণকালী মন্দির। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে যেন সোনায় মোড়া কোনও রাজকীয় দেবালয়। শ্রীকৃষ্ণের রথের আদলে তৈরি এই মন্দিরের ভিতরে পূজিত হন নীলবর্ণা মা কৃষ্ণকালী। প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর ধরে তৈরি হয়েছে এই মন্দির। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, মন্দির নির্মাণের জন্য কোনও চাঁদা সংগ্রহ করা হয়নি। এলাকার প্রায় ১৯০টি বৈষ্ণব পরিবারের উদ্যোগে বৈষ্ণব রীতিতে এখানে দেবীর আরাধনা হয়।

Leave a comment