সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল প্রশাসন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের মাতলা নদীর চরে তৈরি ‘অরণ্যের কূলে’ নামে একটি ক্যাফেতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে উচ্ছেদ অভিযান। আগে নোটিস দিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিজ উদ্যোগে নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি বলে প্রশাসনের দাবি। এরপরই সরকারি নিয়ম মেনে বুলডোজার নামানো হয়।
নোটিসের পরও ভাঙা হয়নি ক্যাফে
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগেই ক্যাফে কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অবৈধ নির্মাণ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা পার হয়ে গেলেও পুরো নির্মাণ ভাঙা হয়নি। যদিও নোটিসের পর ক্যাফে থেকে আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু স্থায়ী কাঠামো অক্ষত থাকায় প্রশাসন নিজেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে।
বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল অবৈধ নির্মাণ
বৃহস্পতিবার সকালে বুলডোজার দিয়ে প্রথমে ক্যাফের প্রধান প্রবেশদ্বার ভাঙা হয়। এরপর একে একে ক্যাফের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা শুরু হয়। প্রশাসনের দাবি, পুরো অভিযান আইন মেনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং সরকারি জমি দখলমুক্ত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
সরকারি জমি দখলের অভিযোগ
প্রশাসনের অভিযোগ, মাতলা নদীর চরে সেচ দফতরের জমির উপর কোনও বৈধ অনুমতি ছাড়াই ক্যাফেটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর নথি যাচাই করে নির্মাণটিকে বেআইনি বলে চিহ্নিত করা হয়। শুনানির সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি স্বেচ্ছায় ভেঙে ফেলার জন্যও সময় দেওয়া হয়েছিল বলে প্রশাসনের বক্তব্য।
নিরাপত্তায় কড়া ব্যবস্থা
উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। উপস্থিত ছিলেন ক্যানিং মহকুমার পুলিশ আধিকারিক, জীবনতলা থানার আধিকারিক এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তারা। ক্যানিং পূর্ব ব্লক প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গোটা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
প্রশাসনের বার্তা
প্রশাসনের বক্তব্য, সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্দেশ পালন না করায় আইন মেনেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় কোনওরকম আপস করা হবে না বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে মাতলা নদীর চরে গড়ে ওঠা বিতর্কিত ‘অরণ্যের কূলে’ ক্যাফের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বড় পদক্ষেপ। সরকারি জমি দখল করে বেআইনিভাবে নির্মাণের অভিযোগে নোটিস দেওয়ার পরও ক্যাফে না সরানোয় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বুলডোজার চালিয়ে ভাঙার কাজ শুরু হয়। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।











