কম খরচে বেশি লাভ! নোনা মাটিতে সরষে চাষে সাফল্য, সুন্দরবনের কৃষিতে শুরু নতুন অধ্যায়

কম খরচে বেশি লাভ! নোনা মাটিতে সরষে চাষে সাফল্য, সুন্দরবনের কৃষিতে শুরু নতুন অধ্যায়

South 24 Parganas Agriculture News: দীর্ঘদিন ধরে ধাননির্ভর কৃষির জন্য পরিচিত সুন্দরবনে এবার বদলের হাওয়া। নোনা ও লবণাক্ত মাটিতেও সফলভাবে সরষে চাষ করে বাড়তি আয় করছেন কৃষকেরা। জমি ফেলে না রেখে রবি মরশুমে এই নতুন ফসল চাষ সুন্দরবনের কৃষি ব্যবস্থায় খুলে দিয়েছে লাভের নতুন দরজা।

ধাননির্ভর কৃষি থেকে বহুমুখী চাষের পথে সুন্দরবন

একসময় সুন্দরবনের কৃষিতে বোরো ও আমন ধানই ছিল প্রধান ভরসা। ধান ছাড়া অন্য কোনও ফসল চাষে আগ্রহ কম ছিল চাষিদের। তবে সময় বদলেছে। বর্তমানে দুই ফসলি জমিকে তিন কিংবা চার ফসলি করার লক্ষ্যে রবি শস্য চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা।

ফাঁকা জমিতে সরষে, কম খরচেই মিলছে লাভ

আমন ধান কাটার পর এবং বোরো ধান রোপণের আগের প্রায় তিন মাস জমি পড়ে থাকত। সেই সময়টাকেই কাজে লাগিয়ে চাষিরা শুরু করেছেন সরষে চাষ। তুলনামূলকভাবে কম বীজ, কম সার এবং কম পরিচর্যায় হওয়ায় এই চাষে খরচ অনেকটাই কম।

নোনা মাটিতেও ভালো ফলন, বাড়ছে চাষের আগ্রহ

সাধারণভাবে সুন্দরবনের নোনা মাটি সরষে চাষের জন্য উপযুক্ত নয় বলেই মনে করা হত। কিন্তু চলতি রবি মরশুমে কৃষকেরা চোখে পড়ার মতো ভালো ফলন পেয়েছেন। ফলে সন্দেহ কাটিয়ে অনেকেই আগামী দিনে সরষে চাষের জমি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।

সরষে গাছই জ্বালানি, বোরো চাষে বাড়তি সুবিধা

সরষে চাষের আরেকটি বড় সুবিধা হল— ফসল কাটার পর গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে জ্বালানির খরচ বাঁচছে। পাশাপাশি সরষে বিক্রি করে পাওয়া বাড়তি টাকায় বোরো ধানের চাষ আরও ভালোভাবে করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন কৃষকেরা।

ভালো দামের আশায় চাষ বাড়াতে চান কৃষকেরা

চলতি মরশুমে বাজারে সরষের দাম ভালো থাকবে বলে আশা করছেন সুন্দরবনের কৃষকেরা। তাঁদের বক্তব্য, এই পদ্ধতিতে চাষ করলে জমি ফেলে না রেখে অন্তত কিছুটা হলেও লাভ নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই আগামী দিনে আরও বেশি কৃষক এই চাষে আগ্রহী হবেন বলেই মনে করছেন তাঁরা।

আমন ও বোরো ধানের মাঝের ফাঁকা সময় কাজে লাগিয়ে সুন্দরবনের কৃষকেরা শুরু করেছেন সরষে চাষ। কম খরচ, কম পরিশ্রম এবং ভালো ফলনের কারণে নোনা মাটিতেও এই চাষে লাভের মুখ দেখছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কৃষকেরা।

Leave a comment