সুপার এল নিনোর ভয়াল ইঙ্গিত! মে-জুনে তীব্র তাপপ্রবাহ, দুর্বল বর্ষায় বিপদের আশঙ্কা দেশে

Super El Nino-এর প্রভাবে ২০২৬ সালে ভারতে তীব্র গরম, দুর্বল বর্ষা ও জলসংকটের আশঙ্কা। কৃষি ও স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এই আবহাওয়ার পরিবর্তন।

এপ্রিলের গরমই যখন অসহ্য, তখন মে-জুনে পরিস্থিতি কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তারই ইঙ্গিত দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া ‘সুপার এল নিনো’ এবং দুর্বল মৌসুমি বায়ুর যুগল প্রভাবে এ বছর দেশের আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সুপার এল নিনোর ভয়াল ইঙ্গিত! মে-জুনে তীব্র তাপপ্রবাহ, দুর্বল বর্ষায় বিপদের আশঙ্কা দেশে
এপ্রিলেই রেকর্ড গরম, সামনে আরও বিপদ

দেশের বহু জায়গায় ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৫-৭ ডিগ্রি বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল শুরু—আগামী দিনে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব আরও বাড়তে পারে। শহরাঞ্চলে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব রাতের তাপমাত্রাও কমতে দিচ্ছে না।

কী এই ‘সুপার এল নিনো’?

El Niño হল এমন একটি জলবায়ু প্রক্রিয়া, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের জল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠে। এ বছর এই উষ্ণতা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২ ডিগ্রি বেশি হতে পারে, তাই একে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হচ্ছে। এর ফলে ভারতে বর্ষা দুর্বল হওয়ার প্রবল আশঙ্কা।

সুপার এল নিনোর ভয়াল ইঙ্গিত! মে-জুনে তীব্র তাপপ্রবাহ, দুর্বল বর্ষায় বিপদের আশঙ্কা দেশে
বর্ষায় বড় ঘাটতির ইঙ্গিত

আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর মৌসুমি বায়ু স্বাভাবিকের মাত্র ৯২ শতাংশ হতে পারে। বিশেষ করে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বৃষ্টির ঘাটতি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কৃষিক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জলসংকট ও বিদ্যুৎ সমস্যার আশঙ্কা

ভারতের অধিকাংশ বৃষ্টিপাত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হয়। বর্ষা দুর্বল হলে জলাধারের জলস্তর দ্রুত কমে যাবে। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ভারতের বহু বাঁধে জলস্তর বিপজ্জনকভাবে কমেছে। এর ফলে পানীয় জল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সুপার এল নিনোর ভয়াল ইঙ্গিত! মে-জুনে তীব্র তাপপ্রবাহ, দুর্বল বর্ষায় বিপদের আশঙ্কা দেশে
বিপজ্জনক ‘ওয়েট বাল্ব’ পরিস্থিতি

তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রির বেশি এবং আর্দ্রতা বেশি থাকলে মানবদেহ স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে পারে না। এই অবস্থাকে ‘ওয়েট বাল্ব টেম্পারেচার’ বলা হয়, যা মারাত্মক হিটস্ট্রোকের কারণ হতে পারে।

কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

বৃষ্টির অভাবে খরিফ ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে। ভূগর্ভস্থ জলের স্তরও পুনরুদ্ধার হবে না। ফলে খাদ্য উৎপাদন কমে গিয়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কী করণীয়? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম জল নির্ভর ফসলের দিকে ঝোঁকা, জল সংরক্ষণ বাড়ানো এবং শহরে ‘কুল রুফ’ ও সবুজায়ন বাড়ানো জরুরি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে উদ্যোগ নিতে হবে।

সুপার এল নিনোর ভয়াল ইঙ্গিত! মে-জুনে তীব্র তাপপ্রবাহ, দুর্বল বর্ষায় বিপদের আশঙ্কা দেশে
El Niño-র প্রভাবে এ বছর তৈরি হচ্ছে ‘সুপার এল নিনো’। এর জেরে তীব্র গরম, দুর্বল মৌসুমি বায়ু এবং কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা—যা কৃষি, জলসংকট ও স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a comment