প্রচণ্ড গরমে ঘাম ঝরবেই। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন ঘামের সঙ্গে শরীরে তৈরি হয় দুর্গন্ধ। অফিস, স্কুল, কলেজ কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে এই সমস্যা অনেককেই অস্বস্তিতে ফেলে। তবে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় এবং দৈনন্দিন অভ্যাস বদল করলেই ঘামের দুর্গন্ধ থেকে অনেকটাই মুক্তি মিলতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘামের গন্ধ কেন হয়? জানুন আসল কারণ
অনেকের ধারণা ঘাম থেকেই দুর্গন্ধ তৈরি হয়। কিন্তু বাস্তবে ঘাম নিজে গন্ধহীন। ত্বকের উপর থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের সংস্পর্শে এসে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্গন্ধ তৈরি করে। তাই শুধু ঘাম কমানো নয়, ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করাও সমান জরুরি।
স্নানের জলে নিমপাতা দিলে মিলতে পারে স্বস্তি
গরমকালে স্নানের জলে কয়েকটি নিমপাতা ভিজিয়ে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। নিমের প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ ত্বকের জীবাণু কমাতে সাহায্য করে। ফলে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে থাকে।একইভাবে গোলাপের পাপড়ি ব্যবহার করলে শরীরে সতেজতা আসে এবং হালকা প্রাকৃতিক সুগন্ধ দীর্ঘক্ষণ বজায় থাকতে পারে।
টি-ট্রি অয়েলও হতে পারে কার্যকর সমাধান
বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে এক বা দু'দিন স্নানের জলে কয়েক ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ত্বক পরিষ্কার থাকে এবং দুর্গন্ধের ঝুঁকিও কমে। তবে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সঠিক পোশাক নির্বাচনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
গরমের দিনে ঢিলেঢালা ও সুতি কাপড়ের পোশাক পরা উচিত। সুতি কাপড় সহজে ঘাম শোষণ করে এবং শরীরে বাতাস চলাচলের সুযোগ দেয়। বিপরীতে সিন্থেটিক বা ভারী পোশাক ঘাম আটকে রেখে দুর্গন্ধের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।বাইরে থেকে ফিরে ব্যবহৃত পোশাক রোদে বা খোলা বাতাসে শুকিয়ে নেওয়াও জরুরি। এতে আর্দ্রতা কমে এবং জীবাণুর বিস্তারও কম হয়।
শরীরের ভাঁজযুক্ত অংশে বাড়তি যত্ন নিন
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বগল, কুঁচকি বা ত্বকের ভাঁজযুক্ত অংশে বেশি ঘাম জমে। এই স্থানগুলিতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত লোম পরিষ্কার রাখা দরকার। এতে ঘাম জমে থাকার প্রবণতা কমে এবং দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ হয়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?
যদি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরও ঘামের দুর্গন্ধ অস্বাভাবিকভাবে থেকে যায়, তবে তা কোনও অন্তর্নিহিত শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গ্রীষ্মকালে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক হলেও অনেকের ক্ষেত্রে শরীরে তীব্র দুর্গন্ধ তৈরি হয়, যা অস্বস্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিচ্ছন্নতা, উপযুক্ত পোশাক এবং স্নানের জলে নিমপাতা বা গোলাপের পাপড়ি ব্যবহার করলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।













