Taki Durga Puja Visarjan: ইছামতীর বুকে আড়াআড়ি দড়ি, এপারে উৎসবের রং আর ওপারে নিস্তব্ধতা! টাকিতে বিসর্জনের ছবিতে স্পষ্ট দুই বাংলার ফারাক

টাকির ইছামতী নদীতে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনে এপার বাংলায় উৎসবের আবহ, ওপারে নিস্তব্ধতা। নদীর মাঝের দড়ি, নিরাপত্তা ও দুই বাংলার বিসর্জনের ছবি জানুন।

একই নদী, দুই পাড়—কিন্তু বিসর্জনের ছবিতে যেন দুই আলাদা জগৎ! টাকির ইছামতী নদীতে দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জনের সময় এপার বাংলায় যখন উৎসবের ব্যস্ততা, তখন ওপার বাংলার ঘাটে দেখা গেল অনেকটাই নিস্তব্ধ পরিবেশ। নদীর মাঝ বরাবর আড়াআড়ি দড়ি দিয়ে নির্দিষ্ট করা হয়েছে সীমান্ত। তার এপারে প্রতিমা নিরঞ্জন ঘিরে মানুষের ভিড় ও তৎপরতা থাকলেও, ওপারে ছিল না সেই চেনা নৌকোর আনাগোনা। দুই বাংলার বিসর্জনের এই ভিন্ন ছবি নজর কেড়েছে পর্যটক ও স্থানীয়দের।

Taki Durga Puja Visarjan: ইছামতীর বুকে আড়াআড়ি দড়ি, এপারে উৎসবের রং আর ওপারে নিস্তব্ধতা! টাকিতে বিসর্জনের ছবিতে স্পষ্ট দুই বাংলার ফারাক

ইছামতীর বুকে দড়ি, নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বিসর্জন

উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত শহর টাকিতে দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন বরাবরই বিশেষ আকর্ষণ। ইছামতী নদীর রাজবাড়ি ঘাটে বিসর্জন দেখতে ভিড় জমান বহু মানুষ। তবে এবার নদীর মাঝ বরাবর বিএসএফের তরফে আড়াআড়ি দড়ি টাঙিয়ে সীমান্ত নির্দিষ্ট করা হয়েছে। নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেই চলছে প্রতিমা নিরঞ্জনের কাজ।অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নৌকায় করে প্রতিমা বিসর্জনের দৃশ্য অনেকটাই কম। হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিমা নৌকায় নিরঞ্জন করা হলেও, অধিকাংশ প্রতিমাই ঘাট থেকে ট্রলির সাহায্যে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। ফলে ইছামতীর বুকে নৌকায় প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার চেনা দৃশ্য এবার তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়েছে।

এপার বাংলায় উৎসব, ওপারে কেন এত নীরবতা?

টাকির রাজবাড়ি ঘাটে যখন প্রতিমা নিরঞ্জন ঘিরে ব্যস্ততা, তখন নদীর ওপারে বাংলাদেশের দিকে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তেমন কোনও নৌকো আসতে দেখা যায়নি। প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ছিল না চেনা কর্মব্যস্ততাও।একসময় ইছামতী নদীতে দুই বাংলার প্রতিমা নিরঞ্জন ঘিরে উৎসবের যে ছবি দেখা যেত, এবার বাংলাদেশের দিকে সেই আড়ম্বর চোখে পড়েনি। তবে ওপারের ঘাটেও কৌতূহলী মানুষের উপস্থিতি ছিল। তাঁরা নদীর এপারে চলতে থাকা নিরঞ্জন পর্ব দেখেছেন।

Taki Durga Puja Visarjan: ইছামতীর বুকে আড়াআড়ি দড়ি, এপারে উৎসবের রং আর ওপারে নিস্তব্ধতা! টাকিতে বিসর্জনের ছবিতে স্পষ্ট দুই বাংলার ফারাক

দুই বাংলার বিসর্জনের ছবিতে বদলের ইঙ্গিত

ইছামতী নদী দীর্ঘদিন ধরেই টাকির দুর্গাপুজোর বিসর্জনকে কেন্দ্র করে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে। নদীর দুই পাড়ের মানুষের কাছে এই সময়ের দৃশ্য ছিল আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র। কিন্তু এবার দুই পাড়ের ছবিতে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা গেল।এপার বাংলায় প্রতিমা নিরঞ্জন চললেও ওপারের ঘাট ছিল অনেকটাই শান্ত। নদীর মাঝখানের দড়ি যেন দুই দেশের সীমান্তের পাশাপাশি বিসর্জনের দুই ভিন্ন পরিস্থিতিকেও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। তবে ওপারে উৎসবের ব্যস্ততা কম থাকার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে প্রতিবেদনে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।

Taki Durga Puja Visarjan: ইছামতীর বুকে আড়াআড়ি দড়ি, এপারে উৎসবের রং আর ওপারে নিস্তব্ধতা! টাকিতে বিসর্জনের ছবিতে স্পষ্ট দুই বাংলার ফারাক

কলকাতার বিসর্জন ঘিরেও বাড়তি নিরাপত্তা

অন্যদিকে, দুর্গাপুজোর প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে কলকাতার বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করেছে কলকাতা পুলিশ। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ২১ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত নির্দিষ্ট ঘাটগুলিতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিদিন বিকেল ৪টে থেকে দায়িত্বে থাকার কথা সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকদের।নিমতলা ঘাট, গওয়ালিয়র ঘাট, বিচালি ঘাট, রতনবাবু ঘাট, শোভাবাজার ঘাট, বাবুঘাট, বাজা কদমতলা ঘাট কমপ্লেক্স এবং নর্থ ইমারশন করিডরে বিশেষ নজরদারি চালানোর কথা জানানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে মোতায়েন থাকবেন পুলিশকর্মীরাও।

Taki Durga Puja Visarjan: ইছামতীর বুকে আড়াআড়ি দড়ি, এপারে উৎসবের রং আর ওপারে নিস্তব্ধতা! টাকিতে বিসর্জনের ছবিতে স্পষ্ট দুই বাংলার ফারাক

দুর্গাপুজোর বিসর্জন ঘিরে উত্তর ২৪ পরগনার টাকির ইছামতী নদীতে দেখা গেল দুই ভিন্ন ছবি। এপার বাংলার রাজবাড়ি ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন ঘিরে উৎসবের আমেজ থাকলেও বাংলাদেশের দিকে তেমন কোনও ব্যস্ততা চোখে পড়েনি। নদীর মাঝ বরাবর বিএসএফের টাঙানো আড়াআড়ি দড়ি দুই দেশের সীমান্ত চিহ্নিত করেছে। নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যে এবার নৌকায় প্রতিমা বিসর্জনের সংখ্যাও কমেছে। একসময় দুই বাংলার মানুষকে একসঙ্গে উৎসবের আবহে মেতে উঠতে দেখা গেলেও, এ বছর ইছামতীর দুই পাড়ে ছবিটা অনেকটাই আলাদা।

Leave a comment