উত্তর ২৪ পরগনার টাকি দীর্ঘদিন ধরেই সপ্তাহান্তের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। ইছামতী নদীর ধারে গড়ে ওঠা একাধিক রিসর্ট ও গেস্টহাউসে ভিড় লেগেই থাকে। তবে এবার সেই পর্যটন কেন্দ্রের দুটি বিলাসবহুল গেস্টহাউসকে ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা হাই কোর্ট। নদীর চর দখল করে নির্মাণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট গেস্টহাউস ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
তিন সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষকে তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তার অগ্রগতি জানাতে হবে।
১৬ জুলাই আদালতে জমা দিতে হবে রিপোর্ট
আদালত জানিয়েছে, আগামী ১৬ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন এই নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। প্রশাসনের ভূমিকা এবং বেআইনি নির্মাণ রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাও আদালতের সামনে তুলে ধরতে হবে।
কীভাবে সামনে আসে অভিযোগ?
গত বছরের শীতের মরশুমে টাকি ভ্রমণে গিয়ে দুই আইনজীবীর নজরে আসে যে ইছামতী নদীর চর দখল করে ‘টাকি সিটি’ ও ‘দিশা’ নামে দুটি বিলাসবহুল গেস্টহাউস তৈরি হয়েছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার ভিত্তিতেই আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ।
পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
আবেদনকারী পক্ষের দাবি, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং পুরসভার একাধিক বিধি উপেক্ষা করে নদীর তীরে এই নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থেই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে আদালতে দাবি জানানো হয়।
নদী ও পর্যটন—দুই রক্ষাতেই জোর
আবেদনকারীদের বক্তব্য, ইছামতী নদীর পাড়ে অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করা গেলে নদীর পরিবেশ যেমন রক্ষা পাবে, তেমনই পর্যটকদের নিরাপত্তাও আরও নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে টাকির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণেও এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে তাঁদের মত।
পৌরসভার ভূমিকায় আদালতের প্রশ্ন
শুনানিতে টাকি পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, একাধিক বেআইনি নির্মাণ ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে এতদিন কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং কীভাবে এসব নির্মাণ গড়ে উঠল, তা নিয়ে আদালত প্রশ্ন তোলে। পাশাপাশি দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেয়।
ইছামতী নদীর তীরে গড়ে ওঠা দুটি বিতর্কিত বিলাসবহুল গেস্টহাউস ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত তিন সপ্তাহের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুর কর্তৃপক্ষকে। বেআইনি নির্মাণ, নদী দখল এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে এই নির্দেশকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।











