একদিকে শতাব্দীপ্রাচীন পাহাড়ি রেলপথ, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোডিং—দুই ভিন্ন সময়ের প্রযুক্তির এমন মিলন সচরাচর দেখা যায় না। শিক্ষক দিবসে সেই বিরল দৃশ্যেরই সাক্ষী থাকল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। ঐতিহাসিক টয় ট্রেনের কামরাকে এবার বানানো হল একটি চলন্ত হ্যাকাথনের মঞ্চ। কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং এবং ফেরার পথে ট্রেনের মধ্যেই তরুণ কোডার, ডেভেলপার ও AI-নির্ভর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা অংশগ্রহণকারীরা পাহাড়ের পর্যটন ও স্থানীয় জীবনের নানা সমস্যা নিয়ে কাজ করেন।
টয় ট্রেনেই শুরু অভিনব হ্যাকাথন
শিক্ষক দিবসের সকালে কার্শিয়াং রেলস্টেশন থেকে বিশেষ হেরিটেজ ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর রিশভ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা নেড়ে এই বিশেষ যাত্রার সূচনা করেন।ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ রুট ধরে ট্রেন এগিয়ে চলে দার্জিলিংয়ের দিকে। আর ট্রেনের কামরার মধ্যেই শুরু হয় হ্যাকাথনের কাজ। ফলে সাধারণ কর্মশালা বা অফিসের বদলে ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনই হয়ে ওঠে অংশগ্রহণকারীদের ‘মুভিং ইনোভেশন স্পেস’।
কী ছিল ‘কোড ফর কমিউনিটিজ: টয় ট্রেন এডিশন’?
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে এবং গুগল ডেভেলপার গ্রুপস শিলিগুড়ির সহযোগিতায় আয়োজিত এই বিশেষ অফলাইন হ্যাকাথনের লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র কোডিং শেখানো নয়। বরং পাহাড়ের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলির কার্যকর প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরির উপর জোর দেওয়া হয়।পাহাড়ি এলাকার পর্যটন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সমস্যাকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। এরপর সম্ভাব্য সমাধানের পরিকল্পনা তৈরি করে আধুনিক ডেভেলপমেন্ট টুল ও AI মডেলের সাহায্যে প্রোটোটাইপ তৈরির কাজ শুরু হয়।
চলন্ত ট্রেনেই AI ও কোডিং
এই হ্যাকাথনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল কাজের পরিবেশ। পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য দেখতে দেখতে টয় ট্রেনের কামরায় বসেই চলেছে কোডিং, আলোচনা ও প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা।উনিশ শতকের প্রযুক্তির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনের ভিতরে বসে একুশ শতকের AI নিয়ে কাজ—এই বৈপরীত্যই পুরো উদ্যোগটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
অফিস বা ল্যাব ছাড়াও হতে পারে উদ্ভাবন
এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও উঠে এসেছে—নতুন প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরির জন্য সবসময় বড় অফিস, ল্যাবরেটরি বা নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজন হয় না।ইন্টারনেট, আধুনিক AI মডেল এবং দক্ষ নির্মাতাদের একটি দল থাকলে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকাতেও বাস্তব সমস্যার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরি করা সম্ভব। টয় ট্রেনের কামরায় আয়োজিত এই হ্যাকাথন সেই ধারণাকেই বাস্তবে তুলে ধরেছে।
ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সেতুবন্ধন
দার্জিলিংয়ের পাহাড় ও সমতলের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে এই রেলপথের। এবার সেই একই রেলপথ নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি এবং পাহাড়ি সমাজের বাস্তব সমস্যার মধ্যে সংযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হল।‘কোড ফর কমিউনিটিজ: টয় ট্রেন এডিশন’ তাই শুধু একটি হ্যাকাথন নয়, ঐতিহ্যবাহী পরিকাঠামোকে নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত করারও এক অভিনব উদাহরণ।
উনিশ শতকের ঐতিহ্যবাহী দার্জিলিং টয় ট্রেনের কামরাতেই এবার বসেছিল একুশ শতকের প্রযুক্তির আসর। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ও গুগল ডেভেলপার গ্রুপস শিলিগুড়ির উদ্যোগে কার্শিয়াং-দার্জিলিং রুটে আয়োজন করা হয় ‘কোড ফর কমিউনিটিজ: টয় ট্রেন এডিশন’। চলন্ত ট্রেনের মধ্যেই AI, কোডিং ও আধুনিক ডেভেলপমেন্ট টুল ব্যবহার করে পাহাড়ের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান খোঁজেন অংশগ্রহণকারীরা।











