আলু-পটল, লাউ কিংবা অন্য কোনও তরকারি—এক মুঠো কুচো চিংড়ি পড়লেই বাঙালি রান্নার স্বাদ যেন কয়েক গুণ বেড়ে যায়। কিন্তু রান্নার আগে এই ছোট মাছ পরিষ্কার করাটাই বড় ঝক্কি। বিশেষ করে ফুল চিংড়ির সঙ্গে মিশে থাকা ঘাস-পাতা ও অন্যান্য ময়লা আলাদা করা বেশ কঠিন। তবে আর একটি একটি করে চিংড়ি বাছার প্রয়োজন নেই। কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতি কাজে লাগালেই অনেকটা চিংড়ি একসঙ্গে পরিষ্কার করা যাবে।
কুলোতেই হবে চিংড়ি পরিষ্কারের কাজ
প্রথমে কুচো বা ফুল চিংড়ি ভালো করে কয়েকবার জল দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর একটি শুকনো কড়াইয়ে হালকা আঁচে প্রায় পাঁচ মিনিট চিংড়িগুলি নেড়ে নিন। এতে মাছের অতিরিক্ত জলভাব কমে যাবে।এরপর চিংড়িগুলি কুলোয় নিয়ে ভালোভাবে ঝেড়ে নিন। এইভাবে ঝাড়ার ফলে অনেক ক্ষেত্রে মাছের খোসা, শুঁড় ও লেজ আলগা হয়ে আলাদা হয়ে যেতে পারে। ফলে হাতে ধরে একেকটি চিংড়ি পরিষ্কার করার পরিশ্রম অনেকটাই কমে যায়।
সবজি ধোওয়ার ঝুড়ি ব্যবহার করুন
ফুল চিংড়ির সঙ্গে অনেক সময় ঘাস, পাতা কিংবা অন্যান্য ময়লা লেগে থাকে। সেগুলি একে একে বাছতে গেলে অনেক সময় চলে যায়। তার বদলে একটি ছিদ্রযুক্ত সবজি ধোওয়ার ঝুড়ি ব্যবহার করতে পারেন।ঝুড়ির নীচে একটি বড় বাটি রেখে তাতে চিংড়ি ঢেলে জল দিন। এরপর হালকা হাতে মাছগুলি নাড়াচাড়া করুন। এতে অনেক ময়লা জলের উপরে ভেসে উঠবে। সেই জল ফেলে আবার পরিষ্কার জল দিন। এভাবে তিন থেকে চারবার ধুয়ে নিলে চিংড়ির সঙ্গে থাকা ময়লা অনেকটাই সরে যাবে।
হালকা গরম জলেও সহজ হবে খোসা ছাড়ানো
আরও একটি পদ্ধতিতে চিংড়ি পরিষ্কার করা যায়। কুচো চিংড়ি বা ফুল চিংড়িকে প্রায় পাঁচ মিনিট হালকা গরম জলে ভিজিয়ে রাখুন।তবে জল যেন ফুটন্ত গরম না হয়। অতিরিক্ত গরম জলে চিংড়ি নরম হয়ে যেতে পারে। হালকা গরম জলে রাখার পর ঝুড়িতে তুলে খুব আলতোভাবে ঘষে নিলে খোসা অনেকটা সহজে আলাদা হয়ে আসতে পারে।
পিচ্ছিল ময়লা দূর করতে মোটা নুন
ছোট চিংড়ির গায়ে কখনও কখনও পিচ্ছিল ভাব বা শ্যাওলা জাতীয় ময়লা লেগে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে চিংড়িগুলি ছাঁকনিতে রেখে তার উপর কিছুটা মোটা দানার নুন ছড়িয়ে দিন।এবার খুব হালকা হাতে ঘষে নিন। এরপর জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেললে গায়ে লেগে থাকা ময়লা পরিষ্কার করা সহজ হতে পারে।
আঁশটে গন্ধ কমাতে কী করবেন?
চিংড়ি পরিষ্কার করার পর আঁশটে গন্ধ কমানোর জন্য সামান্য লেবুর রস বা সাদা ভিনেগার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিংড়িতে অল্প করে মাখিয়ে প্রায় এক মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন।রান্নার আগে হলুদ ও নুন মাখিয়ে রাখার কথাও বলা হয়েছে। তবে মাছ পরিষ্কারের পর অবশ্যই পরিষ্কার জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে রান্না করা উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—কালো শিরা কীভাবে তুলবেন?
ছোট চিংড়ির পিঠে থাকা কালো শিরা বের করতে একেকটি মাছ আলাদা করে ছাড়ানোর দরকার নাও হতে পারে। মাছের পিঠের দ্বিতীয় বা তৃতীয় খাঁজের কাছে একটি টুথপিক ঢুকিয়ে আলতো করে উপরের দিকে টানলে কালো সুতোসদৃশ অংশটি বেরিয়ে আসতে পারে।তবে কাজটি করার সময় হাত ও সরঞ্জাম পরিষ্কার রাখা জরুরি। খুব ছোট চিংড়ির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ দিলে মাছটি ছিঁড়ে যেতে পারে, তাই ধীরে কাজ করাই ভালো।
মাথার ভেতরের ময়লা কীভাবে পরিষ্কার করবেন?
চিংড়ির মাথার অংশেও বালি বা ময়লা জমে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে মাথার সামনের ধারালো অংশ ও শুঁড় কাঁচি দিয়ে কেটে বাদ দেওয়া যায়।এরপর মাথার অংশে আঙুল দিয়ে খুব হালকা চাপ দিলে কালো বা কালচে-সবুজ অংশ বেরিয়ে আসতে পারে। সেটি ফেলে দিয়ে চিংড়ি ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
কুচো চিংড়ি কিংবা ফুল চিংড়ি রান্নায় স্বাদ বাড়ালেও ছোট ছোট মাছ পরিষ্কার করা বেশ সময়সাপেক্ষ। একেকটি চিংড়ি ধরে খোসা, শুঁড়, লেজ ও কালো শিরা পরিষ্কার করতে গিয়ে রীতিমতো নাজেহাল হতে হয়। তবে কয়েকটি সহজ কৌশল জানলে একসঙ্গে অনেকটা চিংড়ি দ্রুত পরিষ্কার করা সম্ভব।













