২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এখনও কিছুটা দূরে, কিন্তু ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট ইতিমধ্যেই ভবিষ্যতের দল গঠনের কাজ শুরু করে দিয়েছে। বিশেষ করে মিডল অর্ডারে পর্যাপ্ত বিকল্প তৈরি রাখাই এখন অন্যতম লক্ষ্য। সেই পরিকল্পনায় উঠে আসছে তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার তিলক বর্মার নাম। শ্রেয়স আইয়ারের বিকল্প হিসেবে তাঁকে তৈরি করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বোলিং করানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
কেন তিলকের দিকে নজর?
তিলক বর্মা বাঁহাতি ব্যাটার। ফলে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারে ডানহাতি ব্যাটারদের আধিক্যের মধ্যে তাঁর বাঁহাতি ব্যাটিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈচিত্র্য এনে দিতে পারে।তাঁর শেষ ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বিশাখাপত্তনমে। এরপর ওয়ানডে সেট-আপে নিয়মিত দেখা যায়নি তাঁকে। তবে বিশ্বকাপের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ফের তাঁকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে খবর।
শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিংয়েও বাড়তি দায়িত্ব
তিলককে শুধুমাত্র ব্যাটার হিসেবে নয়, দলের অতিরিক্ত বোলিং বিকল্প হিসেবেও তৈরি করতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তাঁর অফ-স্পিনকে আরও কার্যকর করার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।মূল লক্ষ্য হল টপ অর্ডার বা মিডল অর্ডারে এমন একজন ক্রিকেটার রাখা, যিনি প্রয়োজনে কয়েক ওভার বল করে দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন। এতে একাদশে অতিরিক্ত বোলার খেলানোর প্রয়োজন কিছুটা কমতে পারে।
কেন এমন ব্যাকআপ প্রয়োজন?
ভারতীয় দলের বর্তমান কম্বিনেশনে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের বয়স বাড়ছে। ২০২৭ বিশ্বকাপের সময় কেএল রাহুলও ৩৫-এর গণ্ডি পেরিয়ে যাবেন। অন্যদিকে রবীন্দ্র জাদেজার ভবিষ্যৎ নিয়েও নিশ্চিত ছবি এখনও নেই।এছাড়া হার্দিক পান্ডিয়া ও নীতীশ কুমার রেড্ডির মতো অলরাউন্ডারদের ফিটনেসও দলের ভারসাম্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কোনও একজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার অনুপস্থিত থাকলে যাতে কম্বিনেশন ভেঙে না পড়ে, তার জন্য আগেভাগেই বিকল্প তৈরি করতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
মিডল অর্ডারে তৈরি হচ্ছে নতুন সমীকরণ
গত এক বছরে দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে পাঁচ বা ছয় নম্বরে কখনও ওয়াশিংটন সুন্দর, কখনও অক্ষর প্যাটেলের মতো ক্রিকেটারদের ব্যবহার করতে হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে মিডল অর্ডারে আরও নির্দিষ্ট ভূমিকার ক্রিকেটার প্রয়োজন।এই জায়গাতেই তিলকের মতো ক্রিকেটার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন। বাঁহাতি ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কয়েক ওভার অফ-স্পিন করার দক্ষতা তাঁকে একাদশের জন্য কার্যকর কম্বিনেশন দিতে পারে।
কবে থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপের আসল প্রস্তুতি?
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা আরও গুরুত্ব সহকারে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে। সেই সময় নিউজিল্যান্ড সফরকে দল গঠনের পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে বেশ কয়েকজন নিয়মিত তারকা ক্রিকেটারকে পাওয়া যাবে না বলে দল কিছুটা আলাদা হতে পারে। একই সময়ে এশিয়ান গেমসের জন্য টি-টোয়েন্টি দল নিয়েও ব্যস্ততা থাকবে।
সামনে কী হতে পারে তিলকের ভূমিকা?
তিলকের সামনে এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হবে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেকে ফের প্রমাণ করা। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অফ-স্পিনে কার্যকর অবদান রাখতে পারলে তিনি ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আরও শক্ত জায়গা করে নিতে পারেন।২০২৭ বিশ্বকাপের আগে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলে তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেওয়াই এখন টিম ম্যানেজমেন্টের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারতীয় দলের মিডল অর্ডার ও ব্যাকআপ পরিকল্পনায় নতুন করে নজর দেওয়া হচ্ছে। শ্রেয়স আইয়ারের বিকল্প হিসেবে তিলক বর্মাকে ভাবা হচ্ছে বলে খবর। বাঁহাতি ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফ-স্পিন দিয়ে দলের ভারসাম্য বাড়ানোর ক্ষমতাই তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।








