ভাগলপুরে ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির পূর্বাভাস, গঙ্গার জলস্তর সতর্কতা স্তরের ওপরে

ভাগলপুরে আগামী তিন দিন মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর এক-দু’দফা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি এবং ২ সেপ্টেম্বর মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর বজ্রপাতের সতর্কতাও দেওয়া হময়ে সর্বোচ্চজলস্তর সতর্কতা স্তরের ওপরে রয়েছে।
ভাগলপুরে ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির পূর্বাভাস, গঙ্গার জলস্তর সতর্কতা স্তরের ওপরে
Photo Credit / Attribution: Google

ভাগলপুরে গত কয়েক দিন ধরে আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। থেমে থেমে বৃষ্টির পাশাপাশি আকাশে মেঘ থাকায় তাপমাত্রায়ও কিছুটা নরমভাব এসেছে। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন ভাগলপুরে মেঘলা আকাশের সঙ্গে বৃষ্টির পর্ব অব্যাহত থাকতে পারে। ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর এক-দু’দফা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

৩০ আগস্ট ২৪ ঘণ্টায় ভাগলপুরে ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ওই সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টির পর বাতাসে আর্দ্রতা বেড়েছে এবং দিনের সময়ের ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমেছে।

শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও আবহাওয়ার এই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দিনভর মেঘের আনাগোনা এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টির কারণে রোদের তীব্রতা কমেছে। কোথাও হালকা বৃষ্টি হয়েছে, আবার কিছু এলাকায় তুলনামূলকভাবে জোরে বৃষ্টিও হয়েছে। বৃষ্টি থামার পর ফের আর্দ্রতা বেড়ে ভ্যাপসা ভাব তৈরি হলেও দীর্ঘ সময় মেঘলা আকাশ থাকায় আগের তুলনায় তাপমাত্রার তীব্রতা কম রয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট ভাগলপুরে সাধারণভাবে মেঘলা আকাশের সঙ্গে এক-দু’দফা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১ সেপ্টেম্বরও একই ধরনের আবহাওয়া থাকতে পারে। ২ সেপ্টেম্বর মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর পর ৩ সেপ্টেম্বর বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

ভাগলপুরে গঙ্গার জলস্তর ইতিমধ্যেই উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে। বৃষ্টির পাশাপাশি নদীর জলস্তরের ওপরও প্রশাসনের নজর রয়েছে। সর্বশেষ আবহাওয়া-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, কাহালগাঁওয়ে গঙ্গা গুরুতর বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে বইছে। ভাগলপুরেও নদীর জলস্তর সতর্কতা স্তরের ওপরে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আগামী দিনগুলিতে বৃষ্টির প্রভাব নিচু এলাকাগুলিতে দেখা দিতে পারে। যেসব এলাকায় আগে থেকেই জল জমে রয়েছে বা বন্যা পরিস্থিতি রয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে মানুষের সমস্যা বাড়তে পারে। অন্যদিকে, স্বাভাবিক শহর ও গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির ফলে গরম ও ভ্যাপসা ভাব কমতে পারে।

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় তৈরি আবহাওয়া ব্যবস্থা পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশে প্রভাব ফেলছে। আইএমডি ৩০ ও ৩১ আগস্ট গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা জানিয়েছে। এর প্রভাবে বিহারের কিছু অংশেও বৃষ্টির কার্যকলাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

পূর্ব বিহারে ভাগলপুরের অবস্থানের কারণে আশপাশের আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাব এখানেও দেখা যেতে পারে। আগামী কয়েক দিন তাই আবহাওয়া পুরোপুরি পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা কম। মাঝেমধ্যে মেঘ ও বৃষ্টির পর্ব চলতে পারে।

বৃষ্টিতে কৃষকদেরও উপকার হতে পারে। যেসব এলাকায় জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতার প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে বৃষ্টি ফসলের জন্য কার্যকর হতে পারে। তবে বন্যাকবলিত এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কৃষকদের সমস্যা বাড়তে পারে। নিচু এলাকায় জমিতে আগে থেকেই পানি জমে থাকলে টানা বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়তে পারে।

শহরে বৃষ্টির প্রভাব যান চলাচলের ওপরও পড়তে পারে। ভারী বৃষ্টিতে রাস্তায় জল জমতে পারে। বিশেষ করে নিচু এলাকা এবং যেসব রাস্তায় জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দুর্বল, সেখানে মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে।

বৃষ্টির সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানো ও বজ্রপাতের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। আইএমডির স্থানীয় পূর্বাভাসে ১ সেপ্টেম্বর বজ্রসহ বিদ্যুৎ পড়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে খোলা মাঠ, গাছের নিচে এবং বিদ্যুতের খুঁটির আশপাশে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভাগলপুরে আগামী কয়েক দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩২ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টির পর বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে ভ্যাপসা ভাব অনুভূত হতে পারে।

বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়ে কিছুক্ষণ পর থেমে যাওয়ার পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। দুপুরের তীব্র রোদের পরিবর্তে মেঘলা আকাশ থাকছে। ফলে বাইরে বের হওয়ার সময় আবহাওয়ার পরিবর্তন বিবেচনায় রাখতে হবে।

স্কুলগামী শিশু, চাকরিজীবী এবং বাজারে যাওয়া মানুষের জন্যও আগামী তিন দিন আবহাওয়া প্রভাব ফেলতে পারে। বৃষ্টির সময় রাস্তায় যান চলাচল ধীর হতে পারে। কোথাও ভারী বৃষ্টি হলে জল জমে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গঙ্গার জলস্তরের পরিস্থিতির কারণে আগামী কয়েক দিন প্রশাসনের নজরদারিও অব্যাহত থাকবে। বন্যাকবলিত গ্রামগুলিতে ত্রাণ ও উদ্ধার সংক্রান্ত ব্যবস্থা সক্রিয় রাখতে হবে। নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে আবহাওয়া এবং নদীর জলস্তর সংক্রান্ত আপডেটের ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির পর্ব শুধু এক দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ৩ সেপ্টেম্বরও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং ৪ সেপ্টেম্বর হালকা বৃষ্টি অথবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। অর্থাৎ আগামী কয়েক দিন ভাগলপুরে আবহাওয়া পুরোপুরি শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা নেই।

বৃষ্টির পর তাপমাত্রা কমে বাতাসে কিছুটা ঠান্ডাভাব অনুভূত হচ্ছে। তবে বৃষ্টি থামলে আর্দ্রতা বেড়ে ফের ভ্যাপসা ভাব তৈরি হতে পারে। ফলে আগামী দিনগুলিতে বৃষ্টি ও আর্দ্রতার প্রভাব একসঙ্গে থাকতে পারে।

ভাগলপুরে বর্ষার কার্যকলাপ ফের সক্রিয় রয়েছে। থেমে থেমে বৃষ্টির পাশাপাশি গঙ্গার জলস্তর সতর্কতা স্তরের ওপরে থাকায় বন্যাকবলিত ও নিচু এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত বৃষ্টির প্রভাব দেখা দিতে পারে। আইএমডি অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টির পর্ব অব্যাহত থাকতে পারে এবং ১ সেপ্টেম্বর বজ্রপাতের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

Leave a comment