আলু-বাঁধাকপিতে ধস, চাষিদের মুখে হাসি ফোটাল ‘লাল সোনা’! কোচবিহারে বাড়ল টমেটোর দাম

আলু-বাঁধাকপিতে ধস, চাষিদের মুখে হাসি ফোটাল ‘লাল সোনা’! কোচবিহারে বাড়ল টমেটোর দাম

একদিকে আলু ও বাঁধাকপির দাম ধসে পড়েছে, অন্যদিকে টমেটোই যেন হয়ে উঠেছে ‘লাল সোনা’। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলার হলদিবাড়িতে এই মুহূর্তে টমেটোর বাজার কিছুটা ভালো থাকায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন কৃষকেরা। অন্যান্য সবজিতে লোকসানের মুখে পড়লেও টমেটো বিক্রি করে অন্তত খরচ তুলতে পারছেন বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা।

টমেটো চাষে পরিচিত হলদিবাড়ি

কোচবিহারের হলদিবাড়ি দীর্ঘদিন ধরেই টমেটো চাষের জন্য পরিচিত এলাকা। এখানকার উর্বর জমিতে উৎপাদিত টমেটো শুধু রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেই নয়, দেশের অন্যান্য প্রান্তেও পাঠানো হয়। প্রতি বছর এই অঞ্চলের কৃষকেরা বড় পরিসরে টমেটো চাষ করে থাকেন।

গত বছর দামের ধস, বড় ক্ষতির মুখে চাষিরা

তবে গত বছর অতিরিক্ত উৎপাদনের ফলে বাজারে টমেটোর দাম ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। সেই সময় চাষিরা প্রায় লোকসানের মুখে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচও তুলতে পারেননি তাঁরা। ফলে টমেটো চাষ নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছিল কৃষকদের মধ্যে।

এ বছর বাজার কিছুটা চাঙ্গা

চলতি বছরে অন্যান্য সবজির বাজার ভালো না থাকলেও টমেটোর দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে হলদিবাড়ির টমেটো ১২ থেকে ১৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক জুয়েল মহম্মদ জানান, গত বছরের তুলনায় এবার অন্তত খরচ উঠে সামান্য লাভের আশা দেখা যাচ্ছে।

ভিনরাজ্যে বাড়ছে চাহিদা

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, হলদিবাড়ির টমেটো এখন শিলিগুড়ি হয়ে দেশের বিভিন্ন বড় শহরে পাঠানো হচ্ছে। দিল্লি ও মুম্বই-সহ বিভিন্ন রাজ্যে এই টমেটোর চাহিদা বাড়ায় বাজার কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে কৃষকদেরও বিক্রির সুযোগ বাড়ছে।

অন্য সবজিতে মন্দা বাজার

অন্যদিকে পাইকারি বিক্রেতাদের মতে, আলু ও বাঁধাকপির বাজার এখন একেবারেই দুর্বল। আলুর দাম মাত্র ৩ থেকে ৫ টাকা কেজি এবং বাঁধাকপির দাম ৩ থেকে ৪ টাকা কেজি পর্যন্ত নেমে এসেছে। ফলে এই সবজিগুলিতে কৃষকেরা প্রায় কোনও লাভই করতে পারছেন না।

উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের হলদিবাড়িতে অন্যান্য সবজির বাজারে মন্দা থাকলেও টমেটোর দামে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন কৃষকেরা। বর্তমানে পাইকারি বাজারে টমেটো ১০ থেকে ১৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর লোকসানের পর এ বছর তুলনামূলক ভালো দামে টমেটো বিক্রি হওয়ায় চাষিদের মুখে ফিরেছে হাসি।

Leave a comment