যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো জোটের প্রতি পুনরায় আস্থার ঘাটতি প্রকাশ করে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি সহযোগী দেশগুলোর সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং গ্রিনল্যান্ডসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যু উত্থাপন করেছেন। এই বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র-ন্যাটো সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য কৌশলগত পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ওয়াশিংটনে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প জোটটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সংকটের সময় ন্যাটো প্রত্যাশিত সহযোগিতা দেয়নি, ফলে ভবিষ্যতেও আস্থা রাখা কঠিন। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পর এই মন্তব্য সামনে আসে।
বৈঠকের পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বড় অক্ষরে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত সমর্থন পায়নি এবং সহযোগী দেশগুলো পিছিয়ে ছিল।
এর আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ন্যাটো সদস্য দেশগুলো যদি তার নিরাপত্তা অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র জোট ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনও কোনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
![]()
ট্রাম্প তার বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ডকে “খারাপভাবে পরিচালিত বড় বরফাচ্ছন্ন এলাকা” বলে উল্লেখ করেন। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীন একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং ডেনমার্ক ন্যাটোর সদস্য দেশ। এই ইস্যুতে অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প আগে গ্রিনল্যান্ডের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তবে আলোচনার পর বিষয়টি স্তিমিত হয়ে যায়। সাম্প্রতিক মন্তব্যে আবার এই বিষয়টি উত্থাপন করায় তার কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রস্থানের প্রশ্নে বিতর্ক বাড়লেও আইনি অবস্থান স্পষ্ট। ২০২৩ সালে পাস হওয়া একটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনের অধীনে কোনো প্রেসিডেন্টকে ন্যাটো ত্যাগ করতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। এই বিধান ট্রাম্পের জন্য একটি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ন্যাটো ১৯৪৯ সালে যৌথ নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল নীতির মধ্যে রয়েছে, এক সদস্যের উপর আক্রমণ মানে সকল সদস্যের উপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই বিধান এখন পর্যন্ত কেবল ৯/১১ হামলার পর সক্রিয় করা হয়েছিল, যখন সদস্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেছিল। তবুও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য জোটটির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।








