হরিয়ানার তুষার কুমার যুক্তরাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র নির্বাচিত

হরিয়ানার রোহতকের ২৩ বছর বয়সী তুষার কুমার যুক্তরাজ্যের এলস্ট্রি অ্যান্ড বোরহ্যামউড টাউন কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। একই নির্বাচনে তাঁর মা পারভীন রানি হার্টসমিয়ার বরো কাউন্সিলে ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।

২৩ বছর বয়সী তুষার কুমার যুক্তরাজ্যের এলস্ট্রি অ্যান্ড বোরহ্যামউড টাউন কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। হরিয়ানার রোহতকের বাসিন্দা তুষার এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। একই নির্বাচনে তাঁর মা পারভীন রানি হার্টসমিয়ার বরো কাউন্সিলে ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

তুষার কুমার লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ভোট গণনার পর তিনি ৮৩২ ভোট পান এবং কনজারভেটিভ প্রতিদ্বন্দ্বীকে এক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ফলাফল নিশ্চিত করতে নির্বাচন কর্মকর্তারা পুনরায় ভোট গণনা করেন, এরপর তাঁর জয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

তুষার কুমারের পরিবার মূলত হরিয়ানার রোহতকের বাসিন্দা। তিনি প্রায় ১০ বছর বয়স পর্যন্ত রোহতকে বসবাস করেন। পরে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যান। তাঁর পরিবার শিক্ষা খাতের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং পড়াশোনা ও সামাজিক সেবাকে গুরুত্ব দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তুষার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর মা তাঁকে ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত থাকতে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, বিদেশে বসবাস করলেও তিনি নিজের ভারতীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন।

তুষার কুমার রাজনীতিতে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে চান। তিনি জানান, সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে পলিটিক্যাল ইকোনমিতে মাস্টার্স ডিগ্রি শুরু করবেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি কমিউনিটি কার্যক্রম ও স্থানীয় ইস্যুতে কাজ শুরু করেন। মে ২০২৩ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের ভারতীয় বংশোদ্ভূত সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলরও নির্বাচিত হন। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ২০ বছর এবং তিনি কিংস কলেজ লন্ডনে অধ্যয়নরত ছিলেন।

হরিয়ানার তুষার কুমার যুক্তরাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র নির্বাচিত

মেয়র হওয়ার আগে কাউন্সিলর হিসেবে তুষার কুমার তাঁর এলাকায় ভারতীয় উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এলস্ট্রি ও বোরহ্যামউড এলাকায় তিনি দীপাবলি উদ্‌যাপনের আয়োজন করেন, যা পরে স্থানীয় সম্প্রদায়ের বার্ষিক কর্মসূচিতে পরিণত হয়। এতে ভারতীয় ও ব্রিটিশ নাগরিকরা অংশ নেন। তুষারের বক্তব্য অনুযায়ী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিভিন্ন সম্প্রদায়কে সংযুক্ত করার কার্যকর মাধ্যম এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান গুরুত্বপূর্ণ।

পারভীন রানির ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়াকেও পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কাজ ও কমিউনিটি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এবং শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন ও স্থানীয় উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বেড়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন থেকে সংসদ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে তাঁদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তুষার কুমার বলেছেন, যুক্তরাজ্যে তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তাঁদের মত প্রকাশের সুযোগ দেয়। তিনি শিক্ষা, যুব কর্মসংস্থান ও কমিউনিটি উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেছেন।

 

Leave a comment