ভোটের আগে ধর্মীয় আবহে রাজনৈতিক বার্তা— এই চিত্র বারবার দেখা যায় বাংলার নির্বাচনে। এবার সেই ছবিই আরও একবার সামনে এল বীরভূমে। সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় প্রচারের ফাঁকেই হাজির হলেন পাথরচাপুরি দাতা বাবার মাজার-এ। চাদর চড়িয়ে জানালেন জয়ের ব্যাপারে নিজের আত্মবিশ্বাস।
প্রার্থী তালিকায় চমক, বদলে গেল সমীকরণ
আসন্ন West Bengal Assembly Election 2026-এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় একাধিক চমক দেখা যায়। সিউড়িতে প্রাক্তন বিধায়ক বিকাশ রায় চৌধুরীকে সরিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে। একইসঙ্গে হাঁসন কেন্দ্রে অশোক চ্যাটার্জির বদলে ফায়েজুল হক ওরফে কাজল শেখকে প্রার্থী করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
প্রচারের মাঝেই মাজারে আগমন
প্রচারের ব্যস্ত সূচির মাঝেই বৃহস্পতিবার রাতে আচমকা পাথরচাপুরি মাজারে পৌঁছন উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। সেখানে তিনি মোট তিনটি চাদর চড়ান বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ধর্মীয় এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটের আগে জনসংযোগের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক বার্তাও তুলে ধরেন তিনি।
কী প্রার্থনা করলেন প্রার্থী?
উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় জানান, দল তাঁকে যোগ্য মনে করে এত বড় কেন্দ্রে দায়িত্ব দিয়েছে। তাই নিজের জয়ের পাশাপাশি তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সুস্থতা ও মঙ্গল কামনায় পৃথকভাবে চাদর উৎসর্গ করেছেন।
উন্নয়নই হাতিয়ার, মানুষের আশীর্বাদে ভরসা
প্রার্থীর দাবি, রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজই তাঁর প্রধান শক্তি। সেই উন্নয়নকে সামনে রেখেই তিনি ভোটারদের কাছে আশীর্বাদ চাইছেন। এই কর্মসূচিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীরাও।
বিজেপির কটাক্ষে চড়ল পারদ
অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, “জেতার জন্য অনেক কিছুই করছেন উজ্জ্বলবাবু। তবে মানুষ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” ফলে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে।
সিউড়ি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রচারের মাঝেই পাথরচাপুরি মাজারে চাদর চড়ালেন। নিজের জয়, দলের সাফল্য ও নেতৃত্বের মঙ্গল কামনাই ছিল তাঁর মূল প্রার্থনা।












