বর্তমানে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা বহু মানুষের নিত্যসঙ্গী। এই অবস্থায় কোন খাবার খাওয়া উচিত আর কোনটি এড়িয়ে চলা প্রয়োজন, তা নিয়ে বিভ্রান্তিও কম নয়। বিশেষ করে বাঙালির প্রিয় রুই ও কাতলা মাছ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। আসলে এই মাছ কি ইউরিক অ্যাসিড দ্রুত বাড়িয়ে দেয়? নাকি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ? বিশেষজ্ঞদের মতেই মিলল উত্তর।
ইউরিক অ্যাসিড কেন বাড়ে? আগে বুঝে নিন কারণ
ইউরিক অ্যাসিড হল শরীরের একটি স্বাভাবিক বর্জ্য পদার্থ, যা পিউরিন ভেঙে তৈরি হয়। সাধারণ অবস্থায় কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে এটি শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে তা শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে স্ফটিকের আকারে জমে গিয়ে তীব্র ব্যথা, ফোলাভাব ও গাউটের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
রুই-কাতলা কি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ?
পুষ্টিবিদদের মতে, রুই ও কাতলা মাছে পিউরিন থাকলেও তা অত্যধিক নয়, বরং মাঝারি মাত্রায় থাকে। ফলে ইউরিক অ্যাসিড থাকলেই এই মাছ পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিত পরিমাণে এবং নিয়ম মেনে খেলে শরীর প্রয়োজনীয় উচ্চমানের প্রোটিন ও উপকারী ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পেতে পারে।
কীভাবে খেলে ঝুঁকি কম থাকবে?
ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের ক্ষেত্রে মাছ রান্নার ধরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল, ঝাল-মশলা বা মিষ্টি দিয়ে রান্না করা মাছ এড়িয়ে চলাই ভালো। হালকা ঝোল, সেদ্ধ বা কম তেলে রান্না করা মাছ তুলনামূলক নিরাপদ। একই সঙ্গে একবারে বেশি না খেয়ে ছোট আকারের এক বা দুই টুকরো মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
কোন খাবারে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন?
রুই-কাতলার তুলনায় রেড মিট, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং কিছু সামুদ্রিক মাছে পিউরিনের পরিমাণ অনেক বেশি। এগুলি ঘন ঘন খেলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় ও খাবারও শরীরে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
শুধু মাছ নয়, জীবনযাপনেও বদল আনতে হবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত পানি পান, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। শুধুমাত্র একটি খাবার বাদ দিলেই সমস্যার সমাধান হয় না; বরং সামগ্রিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলেই দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া সম্ভব।
ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে অনেকেই মাছ খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। কিন্তু রুই বা কাতলা মাছ কি সত্যিই ক্ষতিকর? পুষ্টিবিদদের মতে, এই দুই মাছে মাঝারি মাত্রার পিউরিন থাকলেও নির্দিষ্ট পরিমাণে ও সঠিকভাবে রান্না করে খেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমস্যা হয় না। তবে খাদ্যাভ্যাসে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।













