প্রস্রাবের রং-গন্ধে লুকিয়ে শরীরের বড় সতর্কবার্তা! এই ৫ লক্ষণ দেখলেই দেরি নয়, হতে পারে কিডনি, ডায়াবিটিস-সহ গুরুতর রোগের ইঙ্গিত

প্রস্রাবের রং, গন্ধ, ফেনা, জ্বালা বা পরিমাণে পরিবর্তন কি কিডনি, ডায়াবিটিস বা ইউটিআই-এর লক্ষণ? চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জেনে নিন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা ও কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন।

প্রতিদিনের জীবনে প্রস্রাবের রং বা গন্ধের দিকে খুব কম মানুষই নজর দেন। অথচ এই সাধারণ পরিবর্তনই অনেক সময় শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গুরুতর অসুস্থতার প্রথম বার্তা হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাবের রং, গন্ধ, জ্বালা, পরিমাণ বা ফেনা—এই কয়েকটি বিষয় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা সম্ভব।

প্রস্রাবের রং বদলে গেলে কী বুঝবেন?

স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব হালকা হলুদ হওয়া উচিত। তবে যদি গাঢ় হলুদ, লাল, গোলাপি, কোলা রঙের বা কমলা রঙের প্রস্রাব দেখা যায়, তাহলে তা ডিহাইড্রেশন, সংক্রমণ, কিডনির পাথর, লিভারের সমস্যা বা অন্য শারীরিক জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে। আবার সাদা, সবুজ বা নীলচে প্রস্রাবও সংক্রমণ বা অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা

প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হলে সেটি ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI), ইউরেথ্রাইটিস বা অন্য সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। এমন উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে বা কমে গেলে

খুব ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, আবার অস্বাভাবিকভাবে কম প্রস্রাব হওয়া—দুটিই উদ্বেগের বিষয়। এর নেপথ্যে ইউটিআই, ডায়াবিটিস, উদ্বেগজনিত সমস্যা, ব্লাডার বা কিডনির রোগ থাকতে পারে।

তীব্র দুর্গন্ধ বা অস্বাভাবিক গন্ধ

প্রস্রাবে তীব্র দুর্গন্ধ, অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ বা ফলের মতো মিষ্টি গন্ধ দেখা দিলে তা ডিহাইড্রেশন, ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ, ডায়াবিটিস, লিভারের সমস্যা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।

প্রস্রাবে ফেনা বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন

বারবার ফেনাযুক্ত প্রস্রাব হলে তা কখনও কখনও কিডনি থেকে অতিরিক্ত প্রোটিন বেরিয়ে যাওয়ার (প্রোটিনিউরিয়া) লক্ষণ হতে পারে। যদিও একবার-দু'বার এমন হলে তা সবসময় রোগের কারণ নয়, তবে নিয়মিত হলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি প্রস্রাবের রং বারবার বদলায়, রক্ত দেখা যায়, তীব্র দুর্গন্ধ থাকে, জ্বালা-ব্যথা হয়, ফেনা নিয়মিত দেখা যায় অথবা প্রস্রাবের পরিমাণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে ইউরিন টেস্ট, রক্ত পরীক্ষা বা কিডনির অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে।

প্রস্রাবের রং, গন্ধ, পরিমাণ বা প্রকৃতির পরিবর্তন অনেক সময় শরীরের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। কিডনির অসুখ, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI), ডায়াবিটিস, লিভারের সমস্যা কিংবা ডিহাইড্রেশনের মতো একাধিক অবস্থার ইঙ্গিত মিলতে পারে এসব লক্ষণে। চিকিৎসকদের মতে, এমন পরিবর্তনকে কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

Leave a comment