অযোধ্যায় রাম মন্দির-সংক্রান্ত কথিত চুরির মামলাকে কেন্দ্র করে পৌঁছানো উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে প্রশাসন নজরবন্দি করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি এর আগে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্ধারিত কর্মসূচির আগে পুলিশ ও প্রশাসনের দল তাঁকে নির্ধারিত স্থান থেকে বের হতে বাধা দেয় এবং তাঁর চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। এই পদক্ষেপের পর অযোধ্যায় রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অভিযোগ, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দলের নেতাদের দাবি, রাম মন্দির-সংক্রান্ত কথিত মামলায় নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ট্রাস্টের কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে তার আগেই প্রশাসন তাদের বাধা দেয়।
এদিকে, কংগ্রেস সভাপতির স্ত্রীও প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান, স্বামীর নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন এবং দাবি করেন, “সরকারের থেকে প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে।” তিনি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরপেক্ষ আচরণের দাবি জানান।
অন্যদিকে, প্রশাসনের বক্তব্য, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এড়াতেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, সংবেদনশীল এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাই অগ্রাধিকার, তাই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত সরকারি বিবৃতির অপেক্ষা রয়েছে।
নজরবন্দির খবর প্রকাশ্যে আসার পর কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়। একাধিক সমর্থক ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, যদিও পুলিশ নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখে। গোটা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যাতায়াতকারীদের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
রাম মন্দির-সংক্রান্ত কথিত চুরির ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যের মধ্যেই এই ঘটনা সামনে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা তাদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব।
বর্তমানে উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নজরবন্দি রয়েছেন এবং ট্রাস্টের কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত মিছিল বা ঘেরাও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতির ওপর ধারাবাহিক নজর রাখছে। একই সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সরকারি ব্যাখ্যার অপেক্ষা করা হচ্ছে।












