উত্তরাখণ্ডে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টি এবং উঁচু অঞ্চলে তুষারপাতের সম্ভাবনার কারণে জনজীবন ও চারধাম যাত্রায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের ছয়টি জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং ১০টি জেলার জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে। চারধাম অঞ্চলে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতা বাড়িয়েছে প্রশাসন।
কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, গঙ্গোত্রী এবং যমুনোত্রীর আশপাশের এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। উঁচু এলাকায় তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি তুষারপাত এবং নিচু অঞ্চলে বৃষ্টির ফলে রাস্তায় পিচ্ছিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর ফলে পায়ে হেঁটে যাত্রা করা তীর্থযাত্রীদের সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। খারাপ আবহাওয়ায় পাহাড়ি রাস্তায় দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে, যা যান চলাচল এবং যাত্রা পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
খারাপ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার পরিষেবা বন্ধ থাকায় কেদারনাথ-সহ অন্যান্য ধামে যাওয়ার জন্য এই পরিষেবার পরিকল্পনা করা তীর্থযাত্রীদের যাত্রা ব্যাহত হতে পারে। পাহাড়ি অঞ্চলে হেলিকপ্টার চলাচল আবহাওয়া, বাতাসের গতি এবং দৃশ্যমানতার ওপর নির্ভর করে। নিরাপত্তার নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পরিস্থিতি অনুকূল না থাকলে উড়ান বন্ধ রাখা প্রয়োজন হয়।
তীর্থযাত্রীদের নিজেদের উড়ানের অবস্থা সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং প্রশাসনের কাছ থেকে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া হেলিকপ্টার পরিষেবা পুনরায় চালু হবে ধরে নিয়ে যাত্রার পরিকল্পনা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি জেলাগুলিতে ভূমিধস, ধসের মাটি ও পাথর রাস্তায় পড়ে যাওয়া এবং রাস্তা পিচ্ছিল হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। একটানা বৃষ্টি হলে নালা ও নদীর জলস্তরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংবেদনশীল এলাকাগুলির ওপর নজরদারি এবং রাস্তায় যান চলাচলের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য দেওয়া প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যাত্রীদের নদী ও নালার ধারে যাওয়া, বন্ধ রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনও রাস্তায় চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি হলে তা মেনে চলতে হবে।
চারধাম অঞ্চল সম্পর্কে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে ২৯ অক্টোবর সকালে একাধিক রাস্তায় হালকা বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল। কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, গঙ্গোত্রী এবং যমুনোত্রীর দিকে যাওয়া কয়েকটি উঁচু পথেও হালকা তুষারপাতের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে যাত্রা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসন এবং আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। তাই গোটা রাজ্যে একই ধরনের আবহাওয়া থাকবে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
হলুদ সতর্কতার মধ্যে প্রশাসনের অগ্রাধিকার হল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিষেবাগুলি সচল রাখা। আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর, পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং যাত্রা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
তীর্থযাত্রীদের গরম পোশাক, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পর্যাপ্ত পানীয় জল সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় যাত্রা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়ার পরই বন্ধ পরিষেবাগুলি স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হবে। আপাতত পাহাড়ি এলাকায় যাত্রা করা ব্যক্তিদের সতর্ক থাকা এবং প্রশাসনের সরকারি নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।











