মাত্র ১৪ বছর বয়সেই ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ওপেনার হিসেবে নজর কেড়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, দুর্দান্ত টাইমিং—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতের তারকা হিসেবে তাঁকে দেখছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। তবে বড় ম্যাচ এলেই কেন যেন ছন্দ হারাচ্ছেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনাল সেই প্রশ্নই আরও জোরালো করে তুলেছে।
প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ নেই
বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটিং প্রতিভা নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে এত কম বয়সে ওপেনিং করা এবং দলের জন্য দ্রুত রান তোলা সহজ কাজ নয়। ইউএই-এর মতো দলের বিরুদ্ধে তাঁর বিধ্বংসী ইনিংস প্রমাণ করেছে, সুযোগ পেলে ম্যাচ একার হাতে ঘুরিয়ে দিতে পারেন তিনি।
পরিসংখ্যানে স্পষ্ট ফারাক
দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ২০২৫-এ মোট পাঁচটি ম্যাচ খেলেন বৈভব। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ—ইউএই ও মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে তিনি আত্মবিশ্বাসী ও সাবলীল ছিলেন। কিন্তু শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে রান আসেনি, যা তাঁর পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ফাইনালের চাপেই কি ভেঙে পড়লেন?
সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল এশিয়া কাপের ফাইনাল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারত দ্রুত দুটি উইকেট হারায়, অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রও ফিরে যান। এমন পরিস্থিতিতে দলের দরকার ছিল ধৈর্যশীল ইনিংস। কিন্তু বৈভব আক্রমণাত্মক মানসিকতা বজায় রাখতে গিয়ে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝতে পারেননি।
সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে ব্যর্থ
ফাইনালে ২৫ রানে জীবনদান পেলেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি বৈভব। ভালো শুরু করেও তাড়াহুড়ো করে ভুল শট খেলেন। তাঁর আউটের পর ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ আরও চাপে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপা হাতছাড়া করতে হয়।
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ কোথায়?
বৈভব সূর্যবংশীর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বড় ম্যাচের মানসিক চাপ সামলানো। প্রতিভার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা ও ধৈর্য বাড়ানো জরুরি। অভিজ্ঞতা বাড়লে এই ঘাটতি কাটবে বলেই মনে করছেন কোচ ও ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।
অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে প্রতিভার ঝলক দেখালেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ধারাবাহিক ব্যর্থতা বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে প্রশ্ন বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ ইনিংস নতুন করে আলোচনায় এনেছে তাঁর মানসিক দৃঢ়তা ও ম্যাচ সেন্স।













