শীতকাল মানেই ত্বকের পাশাপাশি চুলেরও বাড়তি যত্ন। ঠান্ডা হাওয়া ও কম আর্দ্রতার কারণে মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে, বাড়ে খুশকি ও চুল পড়ার সমস্যা। অথচ সমাধানের খোঁজে অনেকেই দামি শ্যাম্পু বা সিরামের উপর ভরসা করেন, যা উল্টে চুলের ক্ষতি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে চুলের প্রকৃত যত্ন লুকিয়ে রয়েছে ঘরোয়া তেলের মধ্যেই।
![]()
কেন ঘরোয়া তেলই সেরা?
দামি কসমেটিক প্রোডাক্টে থাকা কেমিক্যাল মাথার ত্বকের স্বাভাবিক তেল নষ্ট করে দেয়। অন্যদিকে ঘরোয়া তেল চুলের গোড়া পুষ্ট করে, স্ক্যাল্প আর্দ্র রাখে এবং খুশকি দূর করতে সাহায্য করে।
নারকেল তেল ও নিমপাতার জাদু
নিমের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণ খুশকি ও স্ক্যাল্পের চুলকানি দূর করতে কার্যকর।
ব্যবহার পদ্ধতি:
১০০ মিলি নারকেল তেলে একমুঠো নিমপাতা ফুটিয়ে নিন
তেল সবুজ রং ধরলে ঠান্ডা করে ছেঁকে রাখুন
সপ্তাহে ২–৩ দিন স্ক্যাল্পে হালকা ম্যাসাজ করুন
নারকেল তেল ও কারি পাতার মিশ্রণ
এই তেল চুলের গোড়া শক্ত করে, চুল পড়া কমায় এবং অকালে পাকা রোধ করে।
ব্যবহার পদ্ধতি:
২৫০ মিলি নারকেল তেলে একমুঠো কারি পাতা ফুটিয়ে নিন
ঠান্ডা করে ছেঁকে বোতলে সংরক্ষণ করুন
সপ্তাহে অন্তত দু’দিন ব্যবহার করুন
ক্যাস্টর অয়েল ও আর্গান অয়েল—শুষ্ক চুলের রক্ষাকবচ
শুষ্ক ও রুক্ষ চুলে জেল্লা ফেরাতে এই তেলের মিশ্রণ দারুণ কার্যকর।
মিশ্রণ তৈরি করুন:
২ চা-চামচ ক্যাস্টর অয়েল
৪ চা-চামচ আর্গান অয়েল
২ চা-চামচ জোজোবা অয়েল
৫–৬ ফোঁটা রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল
সপ্তাহে দু’দিন এই তেল ব্যবহার করলে চুল নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়।
শীত এলেই চুল হয়ে ওঠে শুষ্ক, রুক্ষ আর খুশকিতে ভরা। কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু-সিরামে কাজ না হলে ভরসা রাখুন ঘরোয়া তেলে। নারকেল, নিম, কারি পাতা ও ক্যাস্টর অয়েলের সঠিক ব্যবহারে শীতে চুল হবে মসৃণ, মজবুত ও খুশকিমুক্ত।













