মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ৩৭ বছরের ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ চিরঞ্জীবী কোল্লার মৃত্যুর পর নতুন করে চর্চায় ‘ভ্যালি ফিভার’। ক্যালিফোর্নিয়ার মাটিতে থাকা এক বিশেষ ছত্রাকের সংক্রমণ থেকেই এই রোগ ছড়ায় বলে জানা গিয়েছে। প্রথমে সাধারণ ফ্লু বা নিউমোনিয়ার মতো মনে হলেও, সময়মতো চিকিৎসা না হলে তা মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতীয় প্রযুক্তিবিদের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য
ক্যালিফোর্নিয়ায় কর্মরত ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ চিরঞ্জীবী কোল্লা গত এক মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। পরে পরীক্ষায় ধরা পড়ে তিনি ‘ভ্যালি ফিভার’-এ আক্রান্ত। গত ৫ মে তাঁর মৃত্যু হয়। স্ত্রী ও পাঁচ বছরের সন্তানকে রেখে চলে যাওয়া এই তরুণের মৃত্যুর পরই ফের সামনে আসে এই বিরল রোগের আতঙ্ক।
কী এই ‘ভ্যালি ফিভার’?
‘ভ্যালি ফিভার’ মূলত এক ধরনের ছত্রাকজনিত সংক্রমণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম কক্সিডিওইডোমাইকোসিস। এই সংক্রমণের জন্য দায়ী কক্সিডিওইডিস নামের ছত্রাক, যা শুষ্ক ও ধুলোময় মাটিতে জন্মায়।মূলত আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা, মেক্সিকো এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে এই সংক্রমণ বেশি দেখা যায়।
কীভাবে শরীরে ঢোকে এই রোগ?
এই ছত্রাক মাটিতে বংশবিস্তার করে। নির্মাণকাজ, চাষাবাদ বা ধুলো উড়লে সেই ছত্রাকের ক্ষুদ্র রেণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সেই রেণু শরীরে টেনে নিলে সংক্রমণ ঘটে।বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু এই রোগের উৎস উপত্যকা ও মাটিভিত্তিক অঞ্চল, তাই এর নাম হয়েছে ‘ভ্যালি ফিভার’ বা উপত্যকা-জ্বর।
কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
এই রোগের উপসর্গ অনেকটাই সাধারণ ভাইরাল জ্বর বা নিউমোনিয়ার মতো। ফলে প্রথম দিকে অনেক সময় রোগ ধরা পড়ে না। সাধারণত যে লক্ষণগুলি দেখা যায় সেগুলি হল—
দীর্ঘস্থায়ী জ্বর
শুকনো বা কফসহ কাশি
বুকে ব্যথা
অতিরিক্ত ক্লান্তি
শ্বাসকষ্ট
মাথাব্যথা
পেশী ও গাঁটে ব্যথা
কিছু ক্ষেত্রে ত্বকে র্যাশ বা ওজন কমে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
কখন এই রোগ বিপজ্জনক হয়ে ওঠে?
বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণ মৃদু হলেও, কিছু রোগীর শরীরে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, ডায়াবেটিস রয়েছে বা দীর্ঘদিনের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি।গুরুতর অবস্থায় এই সংক্রমণ ফুসফুস ছাড়িয়ে মস্তিষ্ক, হাড় বা শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ‘ডিসেমিনেটেড ডিজিজ’ বলা হয়।
কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, দীর্ঘ খরা এবং ধুলোর পরিমাণ বাড়ার কারণে আমেরিকার কিছু অঞ্চলে এই ছত্রাক দ্রুত ছড়াচ্ছে। ফলে ‘ভ্যালি ফিভার’ এখন শুধু স্থানীয় অসুখ নয়, আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।বিদেশে কর্মরত ভারতীয়দের মধ্যেও এই রোগ নিয়ে সতর্কতা বাড়ানোর দাবি উঠছে।
আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় কর্মরত এক ভারতীয় প্রযুক্তিবিদের মৃত্যু ঘিরে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে বিরল সংক্রমণ ‘ভ্যালি ফিভার’। বিশেষ ধরনের ছত্রাক থেকে ছড়ানো এই রোগ মূলত ফুসফুসে আক্রমণ করে। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে গুরুতর ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী অবস্থাও তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।













