বাড়িতে ঠাকুরঘর শুধু ধর্মীয় অনুভূতির বিষয় নয়, অনেকের মতে তা সংসারের শান্তি ও ইতিবাচক শক্তিরও কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু সেই ঠাকুরঘর যদি ভুল দিকে তৈরি হয়? বাস্তুশাস্ত্র বলছে, সঠিক দিক না মানলে জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বেডরুমে ঠাকুর রাখার ক্ষেত্রে রয়েছে কড়া সতর্কতা।
ঈশান কোণই সেরা: উত্তর-পূর্বে পুজোঘর রাখার পরামর্শ
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণ, অর্থাৎ ঈশান কোণ, পুজোঘরের জন্য সবচেয়ে শুভ। এই দিকের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা বৃহস্পতি—যিনি জ্ঞান, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক। তারাপীঠ মন্দির-এর প্রবীণ সেবায়েত গোলক মহারাজ জানান, “ঈশান কোণে ঠাকুরঘর হলে সংসারে ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং মানসিক স্থিরতা আসে।”
অবৈজ্ঞানিক নয়, আছে নিজস্ব যুক্তি
অনেকের কাছেই বাস্তু অবৈজ্ঞানিক মনে হতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যালোকের দিক, বায়ুপ্রবাহ ও ঘরের শক্তিক্ষেত্রের ভারসাম্যের সঙ্গে বাস্তু যুক্ত। উত্তর-পূর্ব দিক খোলা ও আলোকিত থাকলে তা মন ও পরিবেশকে শান্ত রাখে—যা পুজো-পাঠের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।
বেডরুমে ঠাকুর? বাধ্য হলে মানতেই হবে নিয়ম
বাস্তু মতে শোওয়ার ঘরে ঠাকুর রাখা একেবারেই অনুচিত। কারণ বেডরুম ব্যক্তিগত বিশ্রামের জায়গা, সেখানে দেবদেবীর স্থায়ী আসন মানানসই নয়। তবে জায়গার অভাবে যদি বেডরুমেই ঠাকুর রাখতে হয়, তাহলে প্রতিদিন রাতে শোবার আগে ঠাকুরের সামনে পর্দা টেনে দেওয়া আবশ্যক। এতে ব্যক্তিগত ও পবিত্র স্থানের বিভাজন বজায় থাকে।
বাথরুমের পাশেও নয় পুজোঘর
ঠাকুরঘরের ঠিক উপরে, নীচে বা সংলগ্ন বাথরুম থাকাও অশুভ বলে মনে করা হয়। বাস্তু মতে এতে পবিত্রতার ব্যাঘাত ঘটে এবং নেতিবাচক শক্তি সঞ্চারিত হতে পারে। তাই বাড়ি নির্মাণ বা সংস্কারের সময় এই বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।
সংসারে সুখ-শান্তির জন্য কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুজোঘর সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আলোকিত রাখা উচিত। দেবমূর্তি উত্তর বা পূর্বমুখী হলে তা শুভ ফল দেয়। নিয়মিত ধূপ-দীপ জ্বালানো এবং অযথা ভাঙা-চোরা প্রতিমা না রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাস্তু মতে বাড়ির ঠাকুরঘর উত্তর-পূর্ব বা ঈশান কোণে হওয়াই শ্রেয়। বেডরুমে ঠাকুর রাখা অনুচিত, তবে বাধ্য হলে বিশেষ নিয়ম মানা জরুরি। কী বলছেন তারাপীঠ মন্দির-এর প্রবীণ সেবায়েত গোলক মহারাজ? জানুন বিস্তারিত।













