Weekend Trip: দিঘা-মন্দারমণির ভিড় এড়াতে শীতে জমছে শংকরপুর ভ্রমণ

Weekend Trip: দিঘা-মন্দারমণির ভিড় এড়াতে শীতে জমছে শংকরপুর ভ্রমণ

 

Shankarpur Weekend Trip: শীতের উইকএন্ডে দিঘা ও মন্দারমণির ভিড় যখন চরমে, তখন শান্তিপ্রিয় পর্যটকদের কাছে নতুন করে জনপ্রিয় হচ্ছে শংকরপুর সমুদ্র সৈকত। পূর্ব মেদিনীপুরের এই নির্জন সৈকতে দেখা মেলে লাল কাঁকড়ার সারি, ঘন ক্যাসুয়ারিনা গাছ, সক্রিয় ফিশিং হারবার এবং দিগন্তজোড়া সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য। দিঘা থেকে মাত্র ১০–১৫ কিলোমিটার দূরের এই গন্তব্য শীতের ছুটিতে শান্তি, প্রকৃতি ও আড্ডা খুঁজে পাওয়ার জন্য বাঙালিদের কাছে আদর্শ হয়ে উঠছে।

দিঘা-মন্দারমণির ভিড়ে হাঁসফাঁস? বিকল্প শান্ত গন্তব্য শংকরপুর

বিগত কয়েক বছর দিঘা-মন্দারমণিতে পর্যটকের ঢল এতটাই বেড়েছে যে শান্তভাবে সমুদ্র উপভোগ করা প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। ঠিক সেই কারণেই অনেকেই ভিড় ঠেলে নতুন গন্তব্য খুঁজছেন।শংকরপুর সেই চাহিদা পূরণ করছে অনায়াসে—কোলাহলহীন পরিবেশ, বিস্তৃত সৈকত আর হালকা বাতাস মিলিয়ে এই জায়গা শীতের ছুটিতে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে।

নির্জন সমুদ্র, লাল কাঁকড়ার সারি আর মনোরম সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত

শংকরপুরের অন্যতম বিশেষত্ব তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সমুদ্রের উজানে দেখা যায় হাজারো লাল কাঁকড়ার দল—যা দিঘা বা মন্দারমণিতেও দেখা যায় না এত ঘন ঘন।সকালের শান্ত ঢেউয়ের সঙ্গে সূর্যোদয়ের রং বদলানো আলোর খেলা এবং বিকেলবেলায় সোনালি সূর্যাস্ত পর্যটকদের মন ভরিয়ে দেয়। এই দৃশ্য দেখতে অনেকেই এক রাত থাকার পরিকল্পনা করে ফেলেন।

দিঘা থেকে মাত্র আধঘণ্টার পথ—যাতায়াতও সহজ

দিঘা থেকে শংকরপুর মাত্র ১০–১৫ কিলোমিটার দূরে, গাড়িতে সর্বোচ্চ আধঘণ্টা। ফলে দিঘা গিয়ে ভিড় দেখে হতাশ হলে সহজেই ঘুরে আসা যায় এই নির্জন সৈকতে।পর্যটন প্রচারের দিক দিয়ে শংকরপুর দিঘার মতো নয়, কিন্তু সেই অপ্রচারই এই সৈকতের শান্ত স্বাদ অটুট রেখেছে।

ফিশিং হারবার, ক্যাসুয়ারিনা গাছ আর গ্রামীণ সৌন্দর্যের মেলবন্ধন

শংকরপুরে রয়েছে একটি সক্রিয় ফিশিং হারবার যেখানে জেলেদের নৌকা দেখা, মাছ নামানো বা জাল মেরামত করার দৃশ্য পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।সৈকতের ধারে সারি সারি ক্যাসুয়ারিনা গাছ এই অঞ্চলকে আরও সবুজ, ছায়াময় ও শান্ত করে তোলে। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

পর্যটকদের মত: ‘দিঘার ভিড়ের বাইরে শান্তি খুঁজে পাই এখানেই’

অনেক পর্যটক জানান, শংকরপুর এতটাই শান্ত ও পরিষ্কার যে যারা বিশ্রাম, অবসর ও প্রকৃতির সান্নিধ্য চান, তাঁদের জন্য এটি নিখুঁত গন্তব্য।স্থানীয় বাঙালি খাবার, জেলেদের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখা, বালির উপর হেঁটে বেড়ানো—সব মিলিয়ে শংকরপুর এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়।

থাকার ব্যবস্থাও প্রচুর—হোটেল থেকে বেনফিশ গেস্ট হাউস

শংকরপুরে হোটেল, রিসর্ট, ট্যুরিস্ট লজের কোনও অভাব নেই। বেনফিশের গেস্ট হাউস এবং ফিশারি দফতরের আবাসনও পাওয়া যায়।যারা নির্জনতা, শান্তি ও প্রাকৃতিক পরিবেশে কয়েকটা দিন কাটাতে চান, তাঁদের জন্য এই সৈকত নিঃসন্দেহে আদর্শ।

শীতের ছুটিতে দিঘা-মন্দারমণির অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে নির্জন সমুদ্র চাইলে শংকরপুর এখন অন্যতম সেরা গন্তব্য। লাল কাঁকড়ার সারি, শান্ত ঢেউ, ক্যাসুয়ারিনা বনানী ও মনোমুগ্ধকর সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত মিলিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের এই সৈকত আবারও পর্যটকদের মন জয় করছে।

 

Leave a comment